দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সেপ্টেম্বরে সংসদে তিনটি কৃষি বিল পাশ হয়। কিন্তু প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে মহারাষ্ট্র বিধানসভার অধ্যক্ষ নানা পাটোলে জানালেন, তাঁদের রাজ্যে ওই তিনটি কৃষি আইন কার্যকরী হবে না। মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে এদিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক। দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে রাজ্যের নানা জেলা থেকে এসেছেন তাঁরা।
বিধানসভার স্পিকার পাটোলে এদিন কৃষকদের জমায়েতে বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, "মহারাষ্ট্র সরকার একটি কমিটি তৈরি করবে। বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। রাজ্য সরকার ওই আইনগুলি কার্যকর করবে না।" পরে পাটোলে বলেন, "প্রথমে আমি একজন কৃষক, তারপর সাংবিধানিক পদাধিকারী। কৃষক হিসাবে আমি এই সমাবেশে এসেছি।" সোমবার আজাদ ময়দানের জমায়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বালাসাহেব থোরাট।
সোমবার আজাদ ময়দান থেকে কৃষকদের প্রতিনিধিরা রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন। রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি এখন শহরে নেই। রাজভবন থেকে কৃষক প্রতিনিধিদের ফিরে আসতে হয়েছে।
শরদ পাওয়ার বলেন, "মহারাষ্ট্রে এমন রাজ্যপাল কখনও আসেননি। তিনি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে দেখা করার সময় পান। কিন্তু কৃষকদের সঙ্গে দেখা করার সময় পাননি।"
মঙ্গলবার দিল্লিতে কৃষকদের মিছিলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে অশান্তি। কয়েক হাজার কৃষক পুলিশের সামনেই ব্যারিকেড ভেঙে পায়ে হেঁটে ঢুকে পড়েছেন দিল্লিতে। তাঁদের পিছনে রয়েছে ট্র্যাক্টর। দিল্লি পুলিশ বলেছিল, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ শেষ হওয়ার পরে কৃষকরা মিছিল করতে পারবেন। কিন্তু তার আগেই দিল্লিতে ঢুকে পড়েছে মিছিল। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে। লাঠিচার্জ করেছে।
এদিন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচাকাওয়াজ শুরুর আগে, সকাল আটটা নাগাদ কৃষকরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন। দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে সিংঘু অঞ্চলে ও দিল্লির পশ্চিমে টিকরি অঞ্চলে হাজার হাজার কৃষককে মার্চ করে দিল্লিতে ঢুকতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে ছিল পতাকা। মিছিলে অনেক ট্র্যাক্টরও দেখা যায়।
দিল্লির অক্ষরধাম নামে এক জায়গায় তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পুলিশ ওভারব্রিজের ওপর থেকে কৃষকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। আর একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, দিল্লির আউটার রিং রোড দিয়ে চলেছে সারি সারি ট্র্যাক্টর। টিকরিতে কৃষক নেতারা অনুগামীদের শান্তিরক্ষা করতে অনুরোধ করেন। মিছিল কোন পথে যাবে, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনায় বসেন পুলিশের সঙ্গে।
গত রবিবার দিল্লি পুলিশ কৃষকদের মিছিলে অনুমতি দেয়। সেই সঙ্গে সকলকে সতর্ক করে বলে, "মিছিলের সুযোগে দুষ্কৃতীরা আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।" পুলিশের স্পেশাল কমিশনার দীপেন্দ্র পাঠক বলেন, "১৩ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে পাকিস্তান থেকে ৩০০ টুইটার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা।