Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার

'সমাজ শোধনের উৎসব চলছে, মেতে ওঠা উচিত!' ফের নাড়িয়ে দিলেন তারাসুন্দরী স্কুলের সেই দিদিমণি

আরজি কর কাণ্ডের আবহে তিনি নিজের স্কুলছাত্রীদের উদ্দেশে যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছিলেন, তার ছত্রে ছত্রে ছিল প্রতিবাদ ও আত্মসম্মানের শিক্ষা। তিনি কথাচ্ছলেই শিখিয়ে দিচ্ছিলেন অধিকার বুঝে নেওয়ার পাঠ। গড়ে দিচ্ছিলেন ঋজু শিরদাঁড়া।

'সমাজ শোধনের উৎসব চলছে, মেতে ওঠা উচিত!' ফের নাড়িয়ে দিলেন তারাসুন্দরী স্কুলের সেই দিদিমণি

মোনালিসা মাইতি।

শেষ আপডেট: 10 September 2024 18:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'যদি রাষ্ট্র ভেঙে পড়ে তাহলে ১৮ বছরের নীচের মানুষদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।' 

সপ্তাহ দুয়েক আগে সারি সারি স্কুলছাত্রীদের সামনে দাঁড়িয়ে দৃপ্ত কণ্ঠে এই কথাগুলি উচ্চারণ করেছিলেন দিদিমণি। তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সেই বক্তব্য শুনে গায়ে কাঁটা দেয়নি, এমন মানুষ কমই রয়েছেন। আরজি কর কাণ্ডের আবহে তিনি নিজের স্কুলছাত্রীদের উদ্দেশে যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছিলেন, তার ছত্রে ছত্রে ছিল প্রতিবাদ ও আত্মসম্মানের শিক্ষা। তিনি কথাচ্ছলেই শিখিয়ে দিচ্ছিলেন অধিকার বুঝে নেওয়ার পাঠ। গড়ে দিচ্ছিলেন ঋজু শিরদাঁড়া।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মোনালিসা মাইতির এই বক্তব্য ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে, এবার এক টিভি চ্যানেলের পর্দাতেও শোনা গেল তাঁর কথা। মুখ্যমন্ত্রীর 'উৎসবে ফিরুন' প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বললেন, 'আমরা উৎসবের মধ্যেই রয়েছি। আজ যে সমাজ শোধনের উৎসব চলছে, আমি মনে করি, দিদিমণি হিসেবে এবং একজন মা ও মানুষ হিসেবে, এই উৎসবে আমাদের প্রত্যেকদিন স্নান করা উচিত। মেতে ওঠা উচিত।'

সোমবারই নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গে বলেন, 'এক মাস হয়ে গেছে। এবার উৎসবে ফিরুন। পুজোতে ফিরে আসুন, দুর্গাপুজো আমাদের সেরা উৎসব, উৎসবে ফিরে আসুন।' মমতার এই কথায় ক্ষোভের আগুন চারিয়ে গেছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। প্রতিবাদী সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ নিন্দা করে বলেছেন, নিহত তরুণীর বিচার না পাওয়া পর্যন্ত উৎসবের কথা ভাবা অসংবেদনশীলতার পরিচয়। 

এমনই সময়ে তারাসুন্দরীর প্রধান শিক্ষিকা মোনালিসা মাইতি বললেন, 'আমরা সবাই ভীষণ কষ্টের মধ্যেই ছিলাম। সেই কারণেই আমাদের পথে পা ফেলা। এখনও পর্যন্ত এর মধ্যে অন্যায় কিছু দেখি না এবং আগামী দিনেও যদি এরকম বেরোতে হয়, আমরা বেরোব। আমরা উৎসবের মধ্যেই রয়েছি। আজ সমাজ শোধনের উৎসব চলছে। এই যে উৎসবের প্রসঙ্গ উঠছে, তাই আমি এই কথাটাকে অন্যভাবে নিচ্ছি না।'

দর্শক-শ্রোতাদের অন্তর থেকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো করে তিনি আরও বলেন, 'আমার মনে হয়, এই গণআন্দোলনের স্পন্দনটা, রাজনীতির লোকজনেরা নিতে পারেননি বা বুঝতে পারেননি। তাই তাঁরা আত্মঘাতী কথা বলছেন যা একইসঙ্গে জনবিরোধী। আমি এটার তীব্র নিন্দা করি।'

নিজেকে  'রাজনীতির লোক নই' বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, 'আমি একেবারে সাধারণ একজন মানুষ, যার কাজই হল ছোট ছোট ঘরের মধ্যে বাচ্চাদের গড়ে তোলা। সেখান থেকে আমি আরও একটা কথা বলতে চাই, অসামান্য যাঁরা, তাঁরা যদি সামান্যের কাছে নেমে আসেন, তাতে তাঁদের গরিমা কখনও কালিমালিপ্ত হয় না, তাঁরা বড় হন। তাঁদের উচ্চতা আরও বাড়ে। এক্ষেত্রে, যাঁরা শাসক হয়ে রয়েছেন, আমরা ভেবেছিলাম তাঁরা নেমে আসবেন।' 

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, তেমনটা হয়নি। একটা মাস কেটে যাওয়ার পরেও ভুল বা দায় স্বীকারের কোনও ইঙ্গিত কোনও উঁচু মহল থেকে মেলেনি। তাই মোনালিসাদেবীর ব্যাখ্যা, 'রক্তকরবী নাটকের রাজার মতো তাঁরা একাই থাকতে ভালবাসেন। পর্বতের শৃঙ্গের মতো উচ্চতায় তাঁরা আনন্দ পান, কিন্তু নিঃসঙ্গতাকে তাঁরা অনুভব করতে পারেন না।'
 
এর আগে স্কুলের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি যখন ছাত্রীদের প্রতিবাদে উৎসাহ দিয়েছিলেন, তখন তিনি বুঝিয়ে বলেছিলেন উচিত-অনুচিত। মনে করিয়ে দিয়েছিলেন নানা বাধ্যবাধকতা। বলেছিলেন, 'আমরা সরকারি চাকরি করি যাঁরা অনেক সময় তাঁদের অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। ওই যে পুলিশরা আজকে এসেছে, আমরা গতকাল পর্যন্ত ৩ বার চিঠি করেছি। কিন্তু এটা ওদের দোষ নয়। আসলে ওই পোশাকটার কিছু নিয়ম আছে। কিন্তু আজকে ওরা যে এসেছে সেটার কারণ ওদের পোশাকের নিচে যে মনুষ্যত্ব আছে সেটার টানে।'

এর পরেই ঘোষণা করেছিলেন, 'অফিসিয়ালি কোনও অনুমতি আমরা পাইনি। আর আমরাও ঠিক করেছিলাম যে যদি জেলে ঢুকতেই হয় তাহলে রাস্তায় নেমেই ঢুকব। ঘরে বসে থাকব না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য সবসময় হিল্লিদিল্লি পৌঁছতে হবে এমনটা নয়। বাড়ি থেকেই তুমি তোমার প্রতিবাদ শুরু করো। তোমার কাজ তুমি করো।'

সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিবাদের পাঠ শিখিয়ে তিনি বলেছিলেন, 'এটা আমার কাছে খুব আনন্দের যে তোমরা নিজেরা আমাকে চিঠি করেছ যে তোমরা এই প্রতিবাদে সামিল হতে চাও।... নিজেদের অধিকারের জন্য অন্য যে কোনও নির্যাতিতার পাশে দাঁড়াবে। এটা বুঝে রাখো। নিজেদের কখনও ঠকাবে না। অন্য কোনও মেয়ের প্রতি অন্যায় হয় তাঁর পাশে দাঁড়াবে।'

প্রতিবাদের সেই সহজপাঠ ভাইরাল হওয়ার পরেই তিনি ফের জ্বলে উঠলেন, সমাজ শোধনের উৎসবের কথা বলে। আসন্ন পুজো উপলক্ষে উৎসবের প্রসঙ্গ উঠলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভকেই উৎসব বলে ইঙ্গিত করলেন তিনি।


```