.png)
উঠে এল ভয়ঙ্কর সত্য
শেষ আপডেট: 23 February 2025 08:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে ট্যাংরার শীল লেনের নারকীয় হত্যাকাণ্ড। প্রণয় দে-র নাবালক ছেলের বয়ানে উঠে এল ভয়ঙ্কর সত্য। মা, কাকিমা ও দিদিকে হত্যা করেছে প্রসূন দে-ই। তদন্তকারীদের হাতে আসছে একের পর এক তথ্যপ্রমাণ, যা প্রসূনের দিকেই ইঙ্গিত করছে। শুধু তাই নয়, লালবাজারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত ছিল দুই ভাই-ই। মৃত্যুর আশঙ্কা বুঝতে পেরেই ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খেতে চায়নি প্রসূনের মেয়ে প্রিয়ংবদা। তাঁকে জোর করে সেই পায়েস খাওয়ানো হয়, যার বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় কিশোরীর।
বুধবার ইএম বাইপাসের দুর্ঘটনা সামনে এনে দেয় এই গা শিউরে ওঠা কাণ্ড। ওই ঘটনায় আহত দুই ভাই এবং এক নাবালক ভর্তি ছিল বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে। তারা জবানবন্দি দেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকায় তদন্ত জটিল হয়ে পড়েছিল। তবে শনিবার প্রণয় ও তার ছেলের জ্ঞান ফিরতেই তদন্তে গতি আসে। হোমিসাইড শাখার আধিকারিকদের জেরায় নাবালক জানায়, প্রসূন-ই তার মা ও কাকিমাকে খুন করেছে। পাশাপাশি, প্রসূনের আচরণ ও বারবার বয়ান বদল তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অনিদ্রায় ভুগছিলেন প্রসূন। নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে হতো তাঁকে। ব্যবসায় বিপুল ক্ষতি ও ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে দুই ভাই আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে। পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একসঙ্গে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেয় তাঁরা।
প্রস্তুতি হিসেবে অনলাইনে একসঙ্গে ১০ পাতা ঘুমের ওষুধ অর্ডার করা হয়। সোমবার সেটি বাড়িতে এসে পৌঁছয়। দোতলায় যখন পায়েস তৈরি হচ্ছিল, তখন তিনতলায় ওষুধ থেঁতো করছিল দুই ভাই। সেই সময় তাদের দেখে ফেলে প্রিয়ংবদা। সে প্রতিবাদ করায় তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয় ও জোর করে ওষুধ মেশানো পায়েস খাওয়ানো হয়। ময়নাতদন্তেও মাথা, মুখ ও বুকে চোটের চিহ্ন মিলেছে।
পরিকল্পনা কি সত্যিই আত্মহত্যার?
লালবাজার সূত্রে খবর, জেরার সময় প্রসূন দাবি করেছে, ‘সকালে উঠে দেখি বউরা কেউ মারা যায়নি। তাই আমরা নিজেরাই হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করি।’ কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। যখন তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়, তখনই তাঁরা গাড়ি নিয়ে বের হয় ‘সুইসাইড স্পট’ খোঁজার জন্য। আড়াই ঘণ্টা ধরে ঘুরলেও মনোমতো জায়গা পায়নি। তবে তদন্তকারীরা নিশ্চিত, এই ঘটনায় আত্মহত্যার পরিকল্পনার আড়ালে লুকিয়ে আছে ঠান্ডা মাথার খুনের ষড়যন্ত্র। সেই দিকেই এগোচ্ছে লালবাজারের তদন্ত।