
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 24 January 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুরের স্যালাইন কাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নেমেছিল বিজেপি। কলেজ স্কোয়ার থেকে মহম্মদ আলি পার্ক পর্যন্ত মিছিল করে তাঁরা। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই মিছিলের পরই এক প্রসূতির পরিবারকে নিয়ে রাজভবন যান তিনি। সেখানে ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। তার আগে মিছিল থেকেই রাজ্যের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, কজনের শরীরে বিতর্কিত আরএল স্যালাইন দেওয়া হয়েছে তার তালিকা দিতে হবে।
স্যালাইন কাণ্ডে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যসচিবের গ্রেফতারির দাবি তোলা হয়েছে বিজেপির তরফে। একই সঙ্গে, যে সকল ডাক্তারদের সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। শুভেন্দুর বক্তব্য, মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে চিকিৎসকদের, রাজ্য নিজেদের গাফিলতি ঢাকার চেষ্টা করছে। এদিনের মিছিল থেকে শুভেন্দু স্পষ্ট মন্তব্য করেন, মানুষের শরীরে বিষ ঢেলেছে এই সরকার। তাই জবাব দিতেই হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।
রাজ্য সরকার স্যালাইন কাণ্ডে চিকিৎসকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে ১২ জন ডাক্তারকে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। কিন্তু বিজেপির দাবি, সরকারি হাসপাতালে ব্ল্যাক লিস্ট করা পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি নিম্নমানের রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন ব্যবহারের ফলে এক প্রসূতির মৃত্যু ও চার জনের অবস্থা সঙ্কটজনক হয়েছিল। তাই দায়ভার ডাক্তারদের ওপর বর্তায় না। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।
এদিকে প্রসূতি মৃত্যু এবং অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও দাবি তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, মৃতার পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর যারা অসুস্থ তাঁদের ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে সরকারকে। প্রসঙ্গত, বুধবার স্যালাইন কাণ্ডের প্রতিবাদে মেদিনীপুর শহরে প্রতিবাদ মিছিল করেছিল সিপিএমের ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠন। সেই মিছিলে ধস্তাধস্তির ঘটনায় ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেই একজন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ। পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায় নামের ওই চিকিৎসকের বক্তব্য, তাঁদের 'বলির পাঁঠা' করা হচ্ছে! তিনি প্রসূতিদের অ্যানাস্থেশিয়া করেছিলেন। অ্যানাস্থেশিয়ার কারণে কোনও কারণে রোগীমৃত্যু হয়নি। কোনও কারণ ছাড়াই তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।