
বিচারপতি অনির্বাণ দাস এবং সঞ্জয় রায়। গ্রাফিক্স, শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 20 January 2025 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিকেল পৌনে তিনটে নাগাদ আরজি কর মামলায় যখন সাজা ঘোষণা (RG Kar Case Verdict) করছেন বিচারপতি অনির্বাণ দাস, তখন বাইরে রাস্তায় তুমুল স্লোগান উঠছে—ধর্ষকের ফাঁসি চাই। শুধু প্রতিবাদীরাই নয়, অনেকেরই ধারণা হয়েছিল ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়য়ের মৃত্যুদণ্ডই হতে চলেছে। কিন্তু রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক অনির্বাণ দাস জানালেন, সঞ্জয় রায়য়ের অপরাধ ‘বিরলতম’ নয়। তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিচ্ছে আদালত।
গত শনিবার মামলার রায়দান করে সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। এদিন সাজা ঘোষণার আগে প্রথা মাফিক সঞ্জয়ের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। নিজেকে নির্দোষ বলে আজও দাবি করে ভাবলেশহীন সঞ্জয়। বলেন, ‘আমি কোনওটাই করিনি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আগের দিনও বলেছি। আমি শুনেছি, অনেক কিছু নষ্ট করা হয়েছে। আমার গলায় রুদ্রাক্ষের মালা ছিল। আমাকে মারধর করা হয়েছে। যার যা ইচ্ছা করছে। যেখানে খুশি সই করিয়ে নিচ্ছে।’’ ওমনি সিবিআইয়ের আইনজীবী জোরালো সওয়ালে বলেন, সঞ্জয় যে অপরাধ করেছে, তা বিরলতম। তার সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত। দু’পক্ষের কথা শোনার পর সাজা ঘোষণার জন্য আরও কিছুটা সময় নেন বিচারক। তার পর বিকেল পৌনে তিনটে নাগাদ তা ঘোষণা করেন।
গত বছরের ৯ অগস্ট ভোর রাতে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Rape and Murder Case) চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। সেই মূল ঘটনার ৫ মাস ১১ দিন পর অবশেষে সাজা ঘোষণা হল।
সিবিআই প্রথম থেকেই অভিষুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারের ফাঁসির আবেদন করেছিল। চার্জশিটেও তাঁকে একা দোষী হিসেবে দাবি করেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার শিয়ালদহ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় রায়কে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ), ৬৬ (ধর্ষণের পর মৃত্যু) এবং ১০৩ (১) (খুন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন।
সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানোর পাশাপাশি বিচারক অনির্বান দাস জানিয়েছেন, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরজি কর হাসপাতালের ভিতরেই কর্মরত অবস্থায় ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল ডাক্তারির পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীকে। গত ১১ নভেম্বর শিয়ালদহ আদালতে শুরু হয় এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
নির্যাতিতার বাবা-মা অবশ্য সিবিআই তদন্তে খুব একটা খুশি হতে পারেননি। তাঁরা প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন যে, এই ঘটনা সঞ্জয় রায়ের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। সিবিআই মূল দোষীদের আড়াল করছে বলেও সন্দেহ করেছেন তাঁরা। এছাড়া প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশও মনে করে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত।
তবে কলকাতা পুলিশের মতই সিবিআই এই মামলার তদন্তে নেমে দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি। বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রমাণ—সবই একজনের দিকেই আঙুল তুলেছে। সে হল সঞ্জয় রায়। তবে অনেকে মনে করছেন, এই মামলা এখনও অনেক দূর গড়াবে। শিয়ালদহ আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কেউ না কেউ উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন। তা করতে পারে নির্যাতিতার পরিবারও।