.webp)
শেষ আপডেট: 18 November 2023 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমহার্স্ট স্ট্রিট থানাকে নিহতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
মোবাইল চুরির সন্দেহে এক ব্যক্তিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও ওই ঘটনায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছিল আদালত। এরপরই মৃত ব্যক্তির দেহ ফেরৎ চেয়ে শনিবার কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানায় পরিবার।
নিহত অশোক কুমার সাউয়ের পরিবারের তরফে শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন জানান আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল।
শুনানি শেষে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ও শ্মশান ঘাট পর্যন্ত পুলিশি ঘেরাটোপের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পর কোনওভাবেই যেন রাস্তা অবরোধ না করা হয়।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, "সরকারের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারের সঙ্গে সহমর্মিতা রয়েছে। কিন্তু দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পর কোনওভাবেই যেন রাস্তায় দেহ রেখে অবরোধ না করা হয়।"
চোরাই মোবাইল কেনার অভিযোগে অশোককে বুধবার সন্ধেয় থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তখনই তাঁকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। অসুস্থ হয়ে পড়লে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর প্রতিবাদে বুধবার রাতে রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ধুন্ধুমার বেঁধে যায় কলেজস্ট্রিট চত্বরে।
ওই ঘটনায় নিহতের ময়নাতদন্ত কেন্দ্রীয় কোনও হাসপাতালে করার পাশাপাশি থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর দাবি জানানো হয়েছিল পরিবারের তরফে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়, নিহতের দেহে আঘাতের কোনও চিহ্ন ছিল না। এরপরই শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়ে দেয়, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের কোনও প্রয়োজন নেই।
তবে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির কথা ছিল। তার আগেই এদিন মৃত ব্যক্তির পরিবারের তরফে দেহ ফেরতের আবেদন জানানো হয়।