
ভাগা পান বিক্রি হতে দেখা গেল ধর্মতলায়
শেষ আপডেট: 20 July 2024 22:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাতঘুমের আগে একটু পান চিবিয়ে নেওয়া অনেক বাঙালিরই অভ্যেস। আর অনভ্যাসীরাও পান চিবোন। তবে তা ভুরিভোজের পর মিঠেপাতায় সীমাবদ্ধ। কাঁচা সুপারির ঘাম ঝড়ানো পান আম বাঙালির রুটিন লাইফে জায়গা করে নিতে পারেনি এখনও। ভাগা পান নামে তা শুধুই রয়েছে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের পছন্দের তালিকায়। এবার একুশের মঞ্চের নীচে তারও দেখা মিলল।
রবিবার সভা। তার আগে শনিবারই ভাগা পান বিক্রি হতে দেখা গেল ধর্মতলায় সভামঞ্চের নীচে। উত্তরবঙ্গে মানুষের কাছে এই পানের মাহাত্মই আলাদা। দক্ষিণবঙ্গে বরোজে পান চাষ করেন চাষিরা। সেই চাষের পানের কৌলিন্য হয়তো নেই এই ভাগা পানের। কারণ লাগোয়া জঙ্গল থেকে অনেকেই এই পান গাছ নিয়ে আসে বাড়িতে। উঠোনের কোনও বড় গাছকে জড়িয়ে ধরে এই তা বেড়ে ওঠে তড়তড় করে। এই পান তাই উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে গাছ পান নামেও পরিচিত।
সময়কালে কাঁচা সুপারি দিয়ে পান সাজাতে বসেন রাজবংশী গৃহস্থরা। পান খেলেই গনগন করে গরম হয়ে ওঠে কান। রীতিমতো জানান দিয়ে পান খাওয়া। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় তা মানানসইও বটে। শীত আর বর্ষা দুই ঋতুই জমে ওঠে ভাগা পানের তেজে। রাজবংশী যে কোনও পরিবারে অতিথি এলে এই ভাগা পান খাইয়েই স্বাগত জানানো হয়। এটাই রীতি। তাই উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে ভাগা পানের অন্য আকর্ষণ।
৩০ টি বাস নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যাতেই জলপাইগুড়ি জেলা থেকে প্রায় দেড় হাজার তৃণমূল কর্মী সমর্থক চলে এসেছেন কলকাতায়। ট্রেনেও আসছেন অনেকেই। তাঁদেরই মধ্যে কয়েকজনকে দেখা গেল ভাগা পান বিক্রি করতে বসে পড়েছেন ধর্মতলায় সভামঞ্চের কাছে। জানালেন, রথ দেখা আর কলা বেচা হবে একসঙ্গেই। দিদির বক্তব্যও শোনা হবে, আবার বিক্রিও হবে টুকটাক। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা অনেক মানুষেক কাছেই যে ডিমভাতের পর ভাগা পান বাড়তি পাওনা।