পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জেরায় কমল জানিয়েছে যে তাঁর সঙ্গে ৩৩ বছরের আদর্শের পরিচয় হয়েছিল একটি ডেটিং অ্যাপে (kasba murder dating app angle) এবং শুক্রবারই তাঁদের প্রথম দেখা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 November 2025 21:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দুপুরে কসবা রাজডাঙা এলাকার হোটেল (Kasba Murder) ঘর থেকে উদ্ধার হয় আদর্শ লোসালকার (chartered accountant Adarsh Losarka death) দেহ। ঘটনার একদিন পরেই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নগ্ন এবং পা বাঁধা অবস্থায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা তথ্য সামনে আসায় রহস্য আরও গভীর হচ্ছে (new angle in Kasba murder)।
কসবা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম ধ্রুব মিত্র যিনি নদিয়ার এক ডেলিভারি এজেন্ট, এবং কালিঘাটের কমল সাহা পেশায় এক কনটেন্ট রাইটার। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জেরায় কমল জানিয়েছে যে তাঁর সঙ্গে ৩৩ বছরের আদর্শের পরিচয় হয়েছিল একটি ডেটিং অ্যাপে (kasba murder dating app angle) এবং শুক্রবারই তাঁদের প্রথম দেখা।
সূত্রের খবর, সম্ভবত দেখা হওয়ার পর হোটেলে রাতে থাকার প্ল্যানিং হয়েছিল তাঁদের। কথাবার্তার সময় কোনও এক কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জেরায় কমলের দাবি, ধস্তাধস্তির মধ্যে আদর্শ মেঝেতে পড়ে যান। এরপর তিনি ও ধ্রুব মিলে তাঁর পা একটি তোয়ালে দিয়ে বেঁধে দ্রুত হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং দুই অভিযুক্তের বয়ান মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখানে প্রশ্ন উঠছে, ডেটিং অ্যাপে আদর্শ এবং কমলের পরিচয় হয়ে থাকলে সেখানে ধ্রুবর ভূমিকা কী? কোনও ভুয়ো চক্র চলছিল কিনা, সেই দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।
শনিবার দুপুরে আদর্শ লোসালকার দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহ ছিল সম্পূর্ণ নগ্ন, পা তোয়ালে দিয়ে বাঁধা, এবং মাথার পিছনে ছিল গভীর আঘাতের দাগ। ঘর থেকে পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি কন্ডোম। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগও পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক অনুমান, আদর্শকে পিছন থেকে আঘাত করা হয় এবং শ্বাসরোধেরও চেষ্টা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে পোস্টমর্টেমের তথ্য হাতে আসার পরই। একই সঙ্গে, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও জানা গিয়েছে, মৃত্যুর পর আদর্শ লোসালকার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপও ডিঅ্যাকটিভেট করা হয়েছে।
হোটেলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযুক্তরা যে আধার কার্ড জমা দিয়েছিল, তা-ও প্রকৃত কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আদর্শের বাবা বিমল কুমার লোসালকা বলেন,
“আমার ছেলে খুব হাসিখুশি ছিল, ঘুরতে ভালবাসত। কোনও শত্রু ছিল না। শুক্রবার দু’মিনিট কথা হয়েছিল, বলল কাজে বেরিয়েছে, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করবে। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি। সম্প্রতি বলেছিল যে প্রোমোশন হয়েছে আর ইনক্রিমেন্টও পেয়েছে। কিছু সহকর্মীর সেটা ভাল লাগেনি। এর বাইরে কোনও সমস্যা ছিল না।”
আদর্শের বাড়ি বীরভূমের দুবরাজপুরে। তিনি কলকাতার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।