
শেষ আপডেট: 16 November 2023 00:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোরাই মোবাইল কেনার অভিযোগে এক যুবককে থানায় ডেকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগে বুধবার সন্ধে থেকে উত্তাল আমহার্স্ট স্ট্রিট। এই মুহূর্তে থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েছেন নিহক যুবকের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে সামিল হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। তাঁদের দাবি, ঘটনার সিবিআই তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
অন্যদিকে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসি সহ ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের ক্লোজ করে অবিলম্বে হেফাজতে নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের নেতৃত্বে কর্মীরা রয়েছেন থানা চত্বরে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কলকাতা পুলিশের বিশাল পুলিশ বাহিনীও।
মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশ যদি অশোককে পিটিয়ে মেরে না থাকে তাহলে থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হোক। তাহলেই তো সবটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। রাজ্যের কোনও সরকারি হাসপাতালে নয়, কমান্ড হাসপাতালে মৃতর ময়নাতদন্তের দাবিও তুলেছে পরিবার।
নিহতের পরিবারের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজটা দেখাক, তাহলেই তো সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। না দেখালে তো বুঝতে হবে, ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। যদি কিছু না হয়ে থাকে তাহলে পুলিশ কেন কলঙ্কিত হবে। ফেসবুক পেজে থানার ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে দিক। একটা সুস্থ লোক থানায় আসার ১০ মিনিটের মধ্যে কীভাবে মারা যেতে পারে?”
নিহতের নাম অশোক কুমার সাউ। তাঁর বাড়ি কলুটোলা লেনে। চোরাই মোবাইল কেনার অভিযোগে ওই যুবককে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তখনই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অসুস্থ হয়ে পড়লে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ধুন্ধুমার বেঁধে যায় কলেজস্ট্রিট চত্বরে।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টা থেকে থানার সামনে বিক্ষোভে বসেছেন পরিবারের সদস্যরা। মৃতের আত্মীয়া রজনী সাউ বলেন, "একটা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কীভাবে থানায় ঢোকার ১০ মিনিটের মধ্যে মারা যেতে পারেন। পুলিশ না মেরে থাকলে ওঁর মুখ দিয়ে রক্ত উঠছিল কেন?"
পুলিশের অবশ্য দাবি, মারধরের অভিযোগ ঠিক নয়। ওই ব্যক্তি নিজেই থানায় অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাতেই তাঁর মাথা ফেটে মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মৃত্যু হয়েছে।