Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার

এত দাহ্য পদার্থ কেন? আগে জীবন রক্ষা করুন, ভোট চাইতে আসিনি, দিঘা থেকে ফিরেই বড়বাজারে মমতা

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে যদি কোনও জনপ্রতিনিধিও বাধা দিতে আসে আমরা বরদাস্ত করব না। পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করবে।

এত দাহ্য পদার্থ কেন? আগে জীবন রক্ষা করুন, ভোট চাইতে আসিনি, দিঘা থেকে ফিরেই বড়বাজারে মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শেষ আপডেট: 1 May 2025 14:39

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘা থেকে ফিরেই বড়বাজারের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Chief Minister Mamata Banerjee)। গত মঙ্গলবার বড়বাজারের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Massive Fire) ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেলটি সিল করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আশেপাশের ভগ্ন বাড়ি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পায়ে হাঁটার পথে একাধিক দাহ্য পদার্থ দেখে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "এত দাহ্য পদার্থ কেন? আগে জীবন রক্ষা করুন।" মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, "আমি ভোট চাইতে আসিনি। প্রয়োজনে আপনারা আমাকে ভোট নাও দিতে পারেন, কিন্তু নিজেদের জীবন রক্ষা করুন।"

যে হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি ভগ্ন বাড়ি। সেটি দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বার বার বলা হচ্ছে এই ভগ্ন বাড়িগুলো থেকে বেরোনোর জন্য। এগুলো এখনই সংস্কার না করলে তো ভেঙে পড়বে। তখন আপনারাই বলবেন, সরকার কী করছিল? কেন এদের সরানো হল না? কিন্তু কেউ যদি না সরে আমরা কি ধাক্কা দেয় বের করব?"

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর আসার আগে থেকেই বড়বাজারের ঘটনাস্থলে ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, কলকাতার পুলিশ কমিশমার মনোজ ভার্মা। তাঁদের দিকে তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা পুলিশ, কর্পোরেশন এবং দমকলকে বলব, বিশেষ কমিটি গঠন করতে। ১৫ দিনের মধ্যে এবিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে, কোথায় কোথায় এরকম ভগ্ন বাড়ি রয়েছে। কোথায় কোথায় অগ্নি নির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। কোথায় কোথায় বেআইনি নিমার্ণ রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড়বাজার এবং জোড়াসাঁকো এলাকায় এরকম প্রচুর ভগ্ন বাড়ি রয়েছে। বহু অনুরোধেও তাঁদের সরানো যায়নি। এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "১৫ দিন সময় দিচ্ছি তার মধ্যে কেউ কথা না শুনলে, না সরলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।" এও বলেন, "আমরা তো সারাজীবন ছেড়়ে যেতে বলছি না, তিন মাসের মধ্যে তো সংস্কার করে আবার আপনাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।"

একই সঙ্গে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ করবে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে যদি কোনও জনপ্রতিনিধিও বাধা দিতে আসে আমরা বরদাস্ত করব না। পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একে ঘিঞ্জি এলাকা, তার ওপর প্রচুর দাহ্য পদার্থ, সেই সঙ্গে অনেকে বেআইনিভাবে নির্মাণ গড়ে তুলছেন। এ জিনিস বরদাস্ত করা হবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার দিঘা থেকেই রাতভর তিনি আগুনের পরিস্থিতির মনিটরিং করছিলেন। ঘিঞ্জি এলাকা এবং আশেপাশে ভগ্ন বাড়ি থাকায় দমকলকে উদ্ধারকাজে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "দমকল কর্মীদের ধন্যবাদ, ওরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশের বিল্ডিং দিয়ে ভেতরে ঢুকে ৯০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কিন্তু হোটেলের ঘরের ধোঁয়া বাইরে বেরোনোর জায়গা ছিল না। ছিল না হোটেলের ভিতর পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা। দু'জন তো সিঁড়ির কাছ অব্দি পৌঁছেও বাইরে বেরোতে পারেনি।ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।"

ঘটনার পর সামনে এসেছে সংশ্লিষ্ট হোটেলটির একাধিক অব্যবস্থার প্রসঙ্গ। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে হোটেলের এক মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে হোটেল মালিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "হোটেলের ব্যবসা দেখলেই হবে না, অতিথিদের সুরক্ষাও দেখতে হবে। এটা মানুষের জীবনের বিষয়। জীবন চলে গেলে তো আর কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না।" 

ইতিমধ্যে নিহতদের জন্য পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "টাকা দিয়ে তো আর মানুষের জীবনের দাম মেটানো যায় না। তাই সুরক্ষার প্রশ্নে সকলকেই সচেতন হতে হবে।"


```