দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে সোমবার পুরসভা ঘেরাও করবে বিজেপি। এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে উত্তাল হতে পারে পুরসভা চত্বর। মিছিল করে এসে বিক্ষোভ হবে, নাকি আচমকাই পুরসভার বিভিন্ন জায়গা থেকে শুরু হবে ঘেরাও, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। করোনার বিধিনিষেধ জারি থাকায় ৫০ জনের বেশি জমায়েত করা নিষিদ্ধ। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘেরাও কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি। বিজেপি জানিয়েছে, পুলিশ যেখানে বাধা দেবে সেখানেই বিক্ষোভে বসে পড়বেন কর্মীরা। গোটা কর্মসূচী ঘিরে তাই বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের পর আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির প্রতিনিধি দল। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। তারপরই বাড়ানো হয় সেখানকার নিরাপত্তা। শনিবারও অভিনব কায়দায় শহর জুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিজেপি। কলকাতার ১০টি জায়গায় জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের প্রতিবাদে পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি যুব মোর্চার কর্মীরা।
ঘটনাচক্রে শনিবার থেকেই নতুন নিয়ম চালু হয়েছে কলকাতা পুরসভাতেও। এবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে ঢুকতে হবে পুরসভায়। বিজেপির তরফে আচমকা বিক্ষোভের আঁচ করেই এই তৎপরতা কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম অবশ্য নতুন কড়াকড়ি নিয়ে জানিয়েছেন, বিভিন্ন কাজ এখন অনলাইন হয়ে গিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে এখন আর ছুটে আসতে হয় না। বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্যের জন্য বরো অফিস রয়েছে। তারপরেও যদি কারও প্রয়োজন হয়, সচিত্র পরিচয়পত্র নিয়েই আসতে হবে। কেন এসেছেন জানার পর টোকেন দেওয়া হবে। এরপরই নির্দিষ্ট বিভাগে যেতে পারবেন মানুষ।
বিজেপি সূত্রে খবর, জাল ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে রাজ্যের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে চায় গেরুয়া দল। তাই লকডাউনের মধ্যেই কর্মসূচীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে সমস্যা থাকায় আপাতত কলকাতার কর্মী–সমর্থকদের নিয়েই হবে ঘেরাও। মূলত মহিলা ও যুব সংগঠনকে সামনে রেখেই হবে বিক্ষোভ। তবে বিক্ষোভ ও ঘেরাওকে কেন্দ্র করে পুরসভায় বিশৃঙ্খলা রুখতে প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।