কলকাতা হাইকোর্ট ও বিচারপতি অমৃতা সিনহা
শেষ আপডেট: 22 November 2024 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য দফতরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম সাহায্য করতে হবে। ৫৮ বছরের নি:সন্তান দম্পতিকে টেস্ট টিউব বেবি নেওয়ার অনুমতি দিয়ে সাফ জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে কোনও সন্তান হয়নি। সে কারণেই টেস্ট টিউব বেবি নেওয়ার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উত্তর কলকাতার দম্পতি। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়ে দেন, আইনিভাবে আর তাঁদের কোনও বাধা থাকবে না।
৩০ বছরের বিবাহিত জীবনে সন্তান হয়নি। একপ্রকার বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা করেন টেস্ট টিউব বেবি নেওয়ার। কিন্তু সেখানে বয়স সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণেই জরুরি হয়ে পড়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি। কিন্তু সেখান থেকেও অনুমতি না পেয়ে শেষমেশ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কাশীপুরের বাসিন্দা ওই দম্পতি।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির বিয়ে হয় ১৯৯৪ সালে। কিন্তু ৩০ বছরে তাঁদের কোনও সন্তান হয়নি। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পিএইচ ফার্টিলিটি ক্লিনিকে আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার জন্য আবেদন জানান তাঁরা। কিন্তু, গত ২৭ জুন দম্পতিকে জানানো হয় তাঁর স্বামীর বয়স প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। সে কারণে স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি লাগবে।
নিয়ম অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে সন্তান নিতে গেলে পুরুষের বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৫৫ বছর। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স হবে ৫০ বছর। কিন্তু কাশীপুরের দম্পতির ক্ষেত্রে স্বামীর বয়স ৫৮। তাই স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি না মেলায় বাধ্য হয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
যদিও মামলার শুনানিতে বিচারপতি সিনহা দম্পতির উদ্দেশে জানতে চান, এই বয়সে এসে সন্তানের দায়িত্ব কীভাবে তাঁরা নিতে পারবেন? উত্তরে দম্পতির আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল আর্থিকভাবে সমর্থ। সন্তান মানুষ করার ক্ষেত্রে যা একান্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে তাঁরা মানসিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। পুরুষের বয়স বেশি হলেও এক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না।
মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হলেও আদালত কোনও নির্দেশ দেয়নি। তবে শুক্রবার বিচারপতি সিনহা জানিয়ে দিলেন তাঁদে বাবা-মা হওয়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না।