
শেষ আপডেট: 10 December 2023 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাগ নিয়ে বাসে উঠেছিলেন। সেই ব্যাগেই রাখা ছিল হাই স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি স্তর পর্যন্ত সমস্ত রকম যোগ্যতার সার্টিফিকেট। ছিল আধার, প্যান এবং ভোটার কার্ডও। সেই মহা মূল্যবান ব্যাগটাকেই ভুলে গিয়ে বাস থেকে নেমে যান যুবক। যতক্ষণে খেয়াল হয় ততক্ষণে মাথায় হাত পড়ে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে যোগাযোগ করেন কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে। তাঁদের সহায়তাতেই খুঁজে পেলেন 'হারানিধি'। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেন যুবক।
হাওড়ার বেলেপোল স্টপেজ থেকে ধুলাগড় থেকে শিয়ালদহগামী বাসে উঠেছিলেন রাজু বসাক নামে এক যুবক। অল্প কিছুটা যাওয়ার পর এক্সাইড মোড়ে নেমে যান তিনি। এমনিতে তাঁর অভ্যেস, টিকিট কেটে সেটা ফেলে দেওয়া, কিংবা ব্যাগে জলের বোতল রাখার পকেটে কোনও মতে সেটাকে গুঁজে দেওয়া। কিন্তু এদিন কোনও এক অজ্ঞাত কারণবশত অন্যরকম ঘটনা ঘটেছিল। কুড়ি টাকার নোট দিয়ে ১৪ টাকার টিকিট কেটে সেই টিকিট এবং ফেরত পাওয়া ৬ টাকা আনমনে নিজের পকেটেই রেখে দিয়েছিলেন রাজু। এরপর গন্তব্য আসতেই বাস থেকে নেমে পড়েন। সিগনাল পেরিয়ে যাওয়ার পর খেয়াল হয়, আরে, ব্যাগটাই তো ফেলে এসেছেন!
ব্যাগে যা যা ছিল, সেসব একবার হারালে যে কী সমূহ বিপদের মুখে পড়তে চলেছেন তিনি, বুঝতে সময় লাগেনি রাজুর। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত যাবতীয় শংসাপত্র এবং সচিত্র পরিচয় পত্র ছিল ওই ব্যাগে। কীভাবে তখন সেসব উদ্ধার করবেন সে কথা ভাবতে গিয়ে পাগল পাগল দশা যুবকের।
হঠাৎ মাথায় আসে পকেটে রাখার টিকিটটার কথা। সময় নষ্ট না করে দৌড়ে যান সাউথ ট্রাফিক গার্ডের কন্ট্রোল রুমে। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে টিকিট দেখান। পুলিশও একটু দেরি না করে টিকিট থেকে বাসের নম্বর দেখে অনেক চেষ্টা করে যোগাযোগ করেন সেটির কন্ডাক্টারের সঙ্গে। তার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর হারানো ব্যাগ ফিরে পান রাজু।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পুরো অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ওই যুবক। কলকাতা ট্রাফিক গার্ডের কর্মীদের পাশাপাশি বাসের কন্ডাক্টরকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আর যাকে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি, সে হল ছোট্ট এক টুকরো কাগজ। রাজুর ভাষায়, 'লাকি টিকিট, জীবনের যোগ্যতা খুঁজে পাওয়ার চাবিকাঠি'। সেই টিকিটের জোরেই এদিন হারিয়ে যাওয়া অমূল্য সম্পদ খুঁজে পেয়েছেন রাজু।
কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে রাজুর সেই পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনরা পুলিশের এমন মানবিক মুখ দেখে আপ্লুত।