দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাজেট পেশের পরে শুক্রবার প্রথমবার বৈঠকে বসল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটি। বৈঠকের পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানান, ব্যাঙ্কের মূল রেটগুলি অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট আগের মতোই থাকছে চার শতাংশ। রিভার্স রেপো রেট থাকছে ৩.৩৫ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়, তাকে বলে রেপো রেট। অন্যদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেয়, তাকে বলে রিভার্স রেপো রেট।
শক্তিকান্ত দাস বলেন, এখন অর্থনীতির বিকাশে সাহায্য করা উচিত। ২০২০ সালের মার্চে দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষিত হয়। তারপর থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দফায় দফায় রেপো রেট কমিয়েছে ১১৫ বেসিস পয়েন্ট। গত বছর ২২ মে শেষবার কমানো হয় পলিসি রেট। তখন থেকেই রেপো রেট অপরিবর্তিত রয়েছে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে খুচরো পণ্যের মুদ্রাস্ফীতি কমেছে ৪.৫৯ শতাংশ। কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী গত নভেম্বরে খুচরো পণ্যের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬.৯৩ শতাংশ। ওই সময় খাদ্যদ্রব্যের মুদ্রাস্ফীতি হয় ৯.৫০ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা কমে হয় ৩.৪১ শতাংশ। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে শাকসবজির দাম কমে ১০.৪১ শতাংশ।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য নানা ক্ষেত্রে বিপুল ব্যয়বরাদ্দ করা হয়। সেই সঙ্গে ব্যাপক বিলগ্নিকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জোর দিয়েছেন মূলত স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে। তাঁর আশা, ওই দু'টি ক্ষেত্রে ভর দিয়েই ঘুরে দাঁড়াবে করোনা বিধ্বস্ত অর্থনীতি। এবছর স্বাস্থ্যে ব্যয়বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। গত বাজেটের তুলনায় এই বরাদ্দের পরিমাণ দ্বিগুণ। এর মধ্যে কোভিডের ভ্যাকসিন দেওয়ার খরচও ধরা হয়েছে। সরকার স্থির করেছে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে কোভিডের প্রতিষেধক দেওয়া হবে।
১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারত করোনা সংক্রমণের নিরিখে আছে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে। অতিমহামারীর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে। ২০২০ সালের মার্চের শেষে দেশ জুড়ে লকডাউন জারি হয়। তার ফলে কার্যত বন্ধই হয়ে যায় উৎপাদন। ২০২০-২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে মোট জাতীয় উৎপাদন সংকুচিত হয় ২৩.৯ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরে অর্থনীতি ৯.৬ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অতিমহামারীর মোকাবিলায় যে বিপুল অর্থ খরচ হবে, তার জন্য বাজেটে ব্যাপক বিলগ্নিকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বিলগ্নিকরণ করা হবে। কেবল কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চারটি ক্ষেত্রে সামান্য অংশীদারিত্ব থাকবে সরকারের। এর আগে 'আত্মনির্ভর ভারত' প্যাকেজে এই বিলগ্নিকরণ পরিকল্পনার একটি অংশ ঘোষণা করা হয়েছিল।
অর্থমন্ত্রীর কথায়, "চারটি ক্ষেত্রে সরকারের সামান্য অংশীদারিত্ব থাকবে। বাকি ক্ষেত্রগুলি পুরোপুরি বেসরকারিকরণ করা হবে।" নির্মলা জানান, স্ট্র্যাটেজিক ও নন স্ট্র্যাটেজিক সেক্টরে বেসরকারিকরণের জন্য নির্দিষ্ট রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর পরে কোন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে বিলগ্নিকরণ করা যায়, তা স্থির করবে নীতি আয়োগ।
২০২১-২২ সালে যে সংস্থাগুলি বিলগ্নিকরণ করা হবে, তার মধ্যে আছে ভারত পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, এয়ার ইন্ডিয়া, শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, কনটেনার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক, ভারত আর্থ মুভারস লিমিটেড এবং পবন হংস।