
শেষ আপডেট: 24 April 2022 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের কান্নুর জেলায় পুন্নল হরিদাস নামে এক সিপিএম কর্মী (Kerala CPM) খুন হন গত ২১ ফেব্রুয়ারি। পেশায় জেলে পুন্নলকে ভোর রাতে বাড়ি ফেরার পথে খুন করা হয়। পার্টি কর্মী খুনের ঘটনায় আরএসএস-বিজেপির দিকে আঙুল তোলে কান্নুর তথা কেরল সিপিএম। গতকাল শনিবার সেই কান্নুর থেকেই নিজিল দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশ।
আর ওই গ্রেফতারের পর থেকেই কার্যত ঘুম ছুটেছে কান্নুরের সিপিএম নেতাদের। নিজিল যে বাড়িতে লুকিয়ে ছিল সেটি মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়নের দেশের বাড়ি থেকে বড়জোর একশো মিটার দূরে অবস্থিত। এলাকাটি আবার লাল দুর্গ হিসাবে পরিচিত।
ওই বাড়ির মালিক এনআরআই ব্যবসায়ী প্রশান্ত ও তাঁর স্ত্রী রেশমা। স্থানীয় সিপিএম নেতারা জানান, ওই পরিবার পার্টির ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে, সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে কান্নুর সিপিএমের সম্পাদক এমভি জয়রাজন ঠিক উল্টো কথা বলেন। তাঁর দাবি, প্রশান্ত ও রেশমার সঙ্গে সিপিএমের কোনও সম্পর্ক নেই। ওরা আরএসএস-বিজেপির ঘনিষ্ঠ।
খুনিকে আশ্রয় দেওয়ায় পুলিশ রেশমাকেও গ্রেফতার করে। তবে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। সিপিএম নেতা জয়রাজনের দাবি, রেশমার জন্য আইনজীবীর ব্যবস্থা বিজেপি করে দিয়েছে। তবে বিরোধীরা প্রথম থেকেই ওই খুনকে পার্টির অন্তর্দলীয় বিবাদ বলে দাবি করে আসছিল। এখন ধৃত এবং তার আশ্রয়দাতার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন লাল পার্টির নেতারা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি কে সুরেন্দ্রন সিপিএমের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাইকে বলতে হবে কী করে খুনের আসামি তাঁর দেশের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরে আশ্রয় পেয়েছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি খুনোখুনির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
প্রসঙ্গত, কান্নুর শুধু পিনারাইয়ের নয়, কেরল সিপিএমের সম্পাদক কোডিয়ারি বালাকৃষ্ণাণ, রাজ্যের লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক ইপি জয়রাজন এবং মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব পি শশীর দেশের বাড়িও সেখানে। স্বভাবতই পার্টি কর্মী খুনের মূল আসামি ও তার আশ্রয়দাতাদের রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে সংশয় এবং সে মুখ্যমন্ত্রীর পৈত্রিক বাড়ির অদূরে আশ্রয় পাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে কান্নুর সিপিএম।
ধরা দিল আশিস! সময়ের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করল লখিমপুর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত