
শেষ আপডেট: 1 September 2023 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী শিবিরের কোন নেতা নরেন্দ্র মোদী ও হিন্দুত্ববাদী শিবিরকে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে থাকেন? এই প্রশ্নের জবাবে অনেকেই হয়তো রাহুল গান্ধী বা আঞ্চলিক কোনও নেতার নাম করবেন। কিন্তু বাস্তব হল, মোদীর কঠোর সমালোচকদের মধ্যে একবারে এক নম্বরে আছেন যিনি সরকারিভাবে তিনি কোনও দলে নেই। সেই নেতা হলেন সুপ্রিম কোর্টের নামজাদা আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal at the India alliance meeting)।
তাঁকে কংগ্রেসের নেতা হিসাবে এখনও ভুল করেন অনেকে। মোদী-সহ গেরুয়া শিবিরকে যে ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি তার সঙ্গে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের অন্য নেতাদের বক্তব্যের ফারাক নেই। কিন্তু প্রায় তিন দশকের সক্রিয় কংগ্রেস নেতা ব্যারিস্টার কপিল সিব্বল গত বছর হাত শিবির ত্যাগ করেন গান্ধী পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ নেতাদের আচরণ এবং পদক্ষেপের কারণে। অন্তত দল ছাড়ার কারণ হিসাবে সে কথাই বলেছিলেন প্রকাশ্যে। তার আগে ছিলেন ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী, কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ। তবে গত বছর ফের টিকিট না মেলায় সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে ফের রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন কপিল।
কে আমন্ত্রণ জানালো কপিলকে? এই প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। আসলে নিমন্ত্রিতের সরকারি তালিকায় কপিলের নাম ছিল না। জানা যায়, মুম্বইয়ের বৈঠকের অন্যতম আয়োজক শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানান বেণুগোপাল। তখন হস্তক্ষেপ করেন শিবসেনার আর এক নেতা সঞ্জয় রাউত, কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, সমাজবাদী নেতা অখিলেশ যাদব প্রমুখ। বিষয়টি রাহুল গান্ধীর কানে গেলে তিনি বলেন, কপিলের আসা নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। কেউ যদি আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন তাহলে আসতেই পারেন। তবে বেণুগোপালের আপত্তি নিয়ে রাহুল কোনও মন্তব্য করেননি।
আসলে কপিলের সঙ্গে উদ্ধবের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে গত এক বছর যাবৎ। মহারাষ্ট্রে তাঁর দলে ভাঙন সংক্রান্ত মামলা নিয়ে লড়াই করছেন কপিল এবং রাজ্যসভার আর এক সাংসদ কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি। তাছাড়া কপিল যেহেতু বিরোধীদের সুরেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তাই তাঁকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান উদ্ধব। বেণুগোপাল আপত্তি তোলার পর কপিলকে অবশ্য খুব বেশি ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়নি। একটি ছবিতে দেখা যায় তিনি পাঞ্জাবের আপ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সঙ্গে কথা বলছেন।
আরও পড়ুন: ‘ইন্ডিয়া’র ১৩ সদস্যের কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে অভিষেক, আছে সিপিআই, নেই সিপিএম