
শেষ আপডেট: 19 August 2023 06:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী সোমবার উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কল্যাণ সিংয়ের (kalyan singh) দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। ওই দিনটি দেশে ‘হিন্দু গৌরব দিবস’ হিসাবে পালন করবে বিজেপি। আলিগড়ে তাঁর গ্রাম আট্রাউলিতে মৃত্যুদিন পালনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গয়াল, বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রমুখ। ওই দিন শুধু আট্রাউলিতেই ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশের আয়োজন করছে বিজেপি।
কে এই কল্যাণ সিং এবং কেনই বা বিজেপি এত গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে স্মরণের আয়োজন করছে? আসলে ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ (babri masjid) ধ্বংসের দিনে কল্যাণ ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের অভিযোগ, কল্যাণের নির্দেশেই পুলিশ-প্রশাসন সেদিন হাত গুটিয়ে থাকায় দিনের আলোয় হিন্দু করসেবকেরা শাবর, কোদালের আঘাতে বাবরি মজজিদ ভেঙে ফেলে।
কল্যাণ সিং মারা যান ২০২১-এর ২১ অগাস্ট। তাঁর অন্তেষ্টিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী-সব বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গত বছর তাঁর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী এবারের মতো গুরুত্ব দিয়ে পালিত হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভা ভোটের কথা বিবেচনায় রেখেই ‘হিন্দু আইকন’ কল্যাণের স্মৃতিচারণার বড় আয়োজন করছে পদ্ম শিবির।
বিরোধীদের বক্তব্য, বিজেপির এই প্রয়াত নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রীই আসলে বাবরি ধ্বংসের প্রধান কারিগর। প্রকাশ্যে তা নিয়ে বড়াই করতেন তিনি। পদ্ম শিবির তাদের মেরুকরণ রাজনীতির অঙ্কেই প্রয়াত নেতার স্মরণ অনুষ্ঠানকে নয়া মাত্রা দিয়ে চাইছে।
প্রসঙ্গত, পুলিশ-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে করসেবকেরা মুসজিদ ধ্বংস করলেও সুপ্রিম কোর্টে কল্যাণ সরকার বাবরি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে ৬ ডিসেম্বরই কল্যাণ সিংয়ের সরকারকে কেন্দ্রের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার বরখাস্ত করে। সেই থেকে বিজেপি-সহ গোটা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চোখে কল্যাণ হিন্দু বীরের মর্যাদা পেয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে বাবরি ধ্বংসের জন্য উল্লাস এবং কৃতিত্ব দাবি করে প্রচার চালান।
মসজিদ ধ্বংসে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরে নাম ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। মামলার শুনানি চলাকালে কল্যাণ ছিলেন রাজস্থানের রাজ্যপাল। রাজ্যপালকে আদালতে ডাকা যায় না। ফলে বাবরি ধ্বংসের জন্য তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি। পরে প্রমাণের অভাবে ওই মামলায় সব অভিযুক্তকেই রেহাই দিয়েছে লখনউের সিবিআই কোর্ট। নরেন্দ্র মোদী সরকার গত বছর কল্যাণ সিংকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ উপাধি দিয়েছে।
উত্তর প্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী সন্দীপ সিং লখনউয়ে জানিয়েছেন, কল্যাণ সিংহের জীবনী স্কুল পাঠ্যের অংশ করা হবে। কিছু দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করবে। মন্ত্রিসভায় এই ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
মন্ত্রী এই ঘোষণার সময় পাশেই ছিলেন কল্যাণ পুত্র তথা এটার সাংসদ রাজবীর সিং। তিনি ঘোষণা করেন, কল্যাণের স্মৃতিতে আলিগড়ের রামঘাট রোডের নাম পরিবর্তন করে রামঘাট-কল্যাণ মার্গ করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। রাস্তাটি চার লেনের করতে ৫১৭ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
কেমিস্ট্রিতে এমএসসি নাসিম গ্রেফতারে দিশেহারা পরিবার, তাঁর মুখের দিকেই যে তাকিয়ে ছিলেন বাবা-মা