দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই গান যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর চোখে জল এনে দিয়েছিল, সেই গান যা প্রতিটি দেশভক্তকে রোমাঞ্চিত করে, সেই গান যা দেশের সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, লতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেই গানই বেছে নিলেন ভারত-তিব্বত বর্ডার পুলিশের এক কনস্টেবল। স্যাক্সোফোনে তুললেন 'অ্যায় মেরে ওয়াতান কে লোগো...' গানের সুর।
দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে লতা মঙ্গেশকরের চলে যাওয়াটা অপূরণীয় ক্ষতির সময়। জীবনে কখনও না কখনও, কোন না কোনও পর্যায়ে লতার গাওয়া কোন না কোনও গান প্রতিটি ভারতীয় মনে ছুঁয়ে আছে। লতার গাওয়া সেই গান বেজে উঠলেই স্মৃতির সরণিতে হেঁটে যান তাঁরা।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের প্রতিটি কোণা থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভেসে এসেছে। তেমনই এক শ্রদ্ধাঞ্জলি ভেসে এল ভারত-তিব্বত বর্ডার পুলিশের কাছ থেকে। এই পুলিশের এক কনস্টেবল মোজাম্মেল হক স্যাক্সোফোনে 'অ্যায় মেরে ওয়াতান কে লোগো..'র সুর তুলছে। টুইটে লেখেন, 'এটা স্বর কোকিলা ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকরের প্রতি ভারত-তিব্বত বর্ডার পুলিশের শ্রদ্ধা।'
কবি প্রদীপের কলমে লেখা, সি রামচন্দ্রের সুরে লতা মঙ্গেশকরের এই গান ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের শহিদ ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেয়েছিলেন। তারপর থেকে এই গান আজও মানুষের মনে জায়গা করে রেখেছে। ১৯৬৩ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু ও রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের উপস্থিতে এই গানটি গেয়ে শোনান লতা। যখন গানের '...জারা আঁখমে ভর লো পানি' লাইনটা গান লতা, তখন তাঁর দরদী গলার টানে মধুর সুর বুকে বেঁধেছিল নেহেরুর কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।
[embed]https://youtu.be/I0aBcU2yq2E[/embed]
প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে ৯২ বছর বয়সেই ছেড়ে চলে গেলেন সুর সম্রাজ্ঞী। ২৮ দিন ধরে করোনার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি হাসপাতালের বেডে। সঙ্গে ছিল ফুসফুসে সংক্রমণও। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাল্টি অর্গান ফেলিওয়ের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আজ সন্ধে ৬:৩০টা নাগাদ মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।