দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ উঠল ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা অ্যান্ট্রিক্স কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছে বেঙ্গালুরুর একটি স্টার্টআপ কোম্পানি দেভাস মাল্টিমিডিয়া। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়েছিল দেভাস। সেই মামলারই শুনানিতে ইসরোর শাখা সংস্থাকে বিপুল অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলল মার্কিন আদালত।
কী নিয়ে মামলা হয়েছিল? ২০০৫ সালে অ্যান্ট্রিক্স কর্পোরেশনের সঙ্গে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরি নিয়ে চুক্তি হয়েছিল বেঙ্গালুরুর দেভাস মাল্টিমিডিয়ার। দেভাসের অভিযোগ, দুটি স্যাটেলাইট তৈরি ও তাদের উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যাপারের তদারকি করবে বলে চুক্তিতে জানিয়েছিল অ্যান্ট্রিক্স। পরে হাইব্রিড স্যাটেলাইট তৈরি নিয়েও কথাবার্তা হয়েছিল দুই সংস্থার মধ্যে। কিন্তু ২০১১ সালে তারা মুখ ঘুরিয়ে নেয়। চুক্তি বাতিল করে দেয়। অ্যান্ট্রিক্সের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে দেভাস। কিন্তু পরে সেই মামলারও নিষ্পত্তি হয়ে যায় শীর্ষ আদালতে।
আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে গত ২৭ অক্টোবর এই মামলার শুনানি হয়। বিচারক টমাস এস জিলি জানান, চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ মিথ্যা নয়। তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে অ্যান্ট্রিক্স-দেভাসের চুক্তিতে অনেক গলদ রয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেভাসকে ৫৬ কোটি ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে যা সুদেআসলে বেড়ে হয়েছে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার।
অ্যান্ট্রিক্স কর্পোরেশনের হেডকোয়ার্টার রয়েছে ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে। ইসরোর এই শাখা সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্যই স্যাটেলাইট তৈরি ও তার উৎক্ষেপণের জন্য লঞ্চিং ভেহিকল তৈরি করে। ২০১৮ সালে রেডমন্ডের একটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার জন্য স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল অ্যান্ট্রিক্স। এর আগে ২০১৫ সালে কলোরাডোর একটি কোম্রানি প্ল্যানেটিকের জন্য দুটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে অ্যান্ট্রিক্স।