দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুশ বিরোধী নেতা অ্যালেক্স নাভালনিকে বিষ দিয়ে খুনের চেষ্টা হয়েছিল কিনা সে নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছেই। রাশিয়া বলছে বিরোধী নেতার শরীরে বিষের অস্তিত্ব মেলেনি। এদিকে জার্মানির বার্লিন হাসপাতাল বলছে নোভিচক জাতীয় মারাত্মক বিষ দিয়ে খুনের চেষ্টা হয়েছিল নাভালনিকে। চায়ের সঙ্গে বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় তাঁকে। সম্প্রতি রুশ বিরোধী নেতার টিমের তরফেই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আনা হয়েছে।
নতুন সূত্রে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে নয় বরং সাইবেরিয়ার তোমাস্ক শহরের যে হোটেলে তিনি উঠেছিলেন সেখানেই তাঁর শরীরে বিষপ্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। নাভালনির ঘর থেকে একটি ফাঁকা মিনারেল ওয়াটারের বোতল পাওয়া গেছে যার মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকের খোঁজ মিলেছে বলে দাবি।
সম্প্রতি নাভালনির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে যেখানে দেখা গেছে, তাঁর দলের লোকজন হোটেলের ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তোমাস্ক শহরের জ্যানডার হোটেলে ছিলেন রুশ বিরোধী নেতা। গত ২০ অগস্ট সেখান থেকে তিনি চেক আউট করেন। তারপর ফেরার পথে মাঝআকাশে বিমানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নাভালনি। তাঁর মুখপাত্র কিরা ইয়ার্মিক্স জানান বিষ খাওয়ানো হয়েছে নাভালনিকে। বিমানবন্দরে তিনি এক কাপ চা খেয়েছিলেন। তারপরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিমানের শৌচাগার থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে।
নাভালনির টিমের সদস্যরা বলছেন, আসলে চায়ে নয়বিষ ছিল জলের বোতলে। নাভালনির ঘর থেকে ‘হোলি স্প্রিং’ নামে একটি ফাঁকা মিনারেল ওয়াটারের বোতল পাওয়া গেছে যার ফরেন্সিক পরীক্ষা করিয়ে বিষের প্রমাণ মিলেছে।
বার্লিনের হাসপাতালে কোমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে নিজের ছবিও পোস্ট করেছেন নাভালনি। বলেছেন, তাঁর হাত-পা এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি। খাবার খেতেও সমস্যা হয় তাঁর। শরীরও ভীষণ দুর্বল। জার্মান চান্সেলন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল আগেই বলেছিলেন, বার্লিন হাসপাতালের অনুরোধেই জার্মানির সেনা হাসপাতালে নাভালনির শরীর থেকে নেওয়া নমুনার পরীক্ষা চালানো হয়। তাতেই নোভিচক নামে একধরনের নার্ভ এজেন্টের খোঁজ মেলে। তাছাড়াও নাভালনির একাধিক শারীরিক পরীক্ষাতেও বিষপ্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
১৯৭০-৮০ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে নোভিচক নামক বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে ব্রিটেনের সলসবারিতে রাশিয়ার গুপ্তচর সার্জেই স্ক্রিপাল ও তাঁর মেয়ে ইউলিয়াকেও বিষাক্ত নোভিচক রাসায়নিক দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। নোভিচক এমন এক রাসায়নিক যা শরীরে ঢুকলে সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গকেই অকেজো করতে শুরু করে। নাভালনির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে দাবি বার্লিন হাসপাতালের।
নাভালনির উপর আগেও দুষ্কৃতী হামলা হয়েছে। ২০১৭ সালের দুষ্কৃতীরা তাঁর মুখে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছুড়ে মারে। গত বছর অগস্ট মাসে ‘বেআইনি প্রতিবাদ সমাবেশে’ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে নাভালনি বন্দি হয়েছিলেন। পুলিশ হেপাজতে তাঁর হাতে র্যাশ বেরিয়েছিল। চিকিৎসকরা অবশ্য বলেছিলেন, তাঁর অ্যালার্জি হয়েছে। কিন্তু নাভালনি দাবি করেছিলেন, তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া হয়েছে।