দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনের প্রথম ইউনিট চলে এসেছে রাশিয়ায়। তবে এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে কতটা কার্যকরী সে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। দ্য মস্কো টাইমস একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, টিকা নিয়ে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে স্পুটনিক ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, টিকার প্রয়োগে কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস নেই। বরং টিকার একটি ডোজেই রোগ প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে।
গ্যামেলিয়ার কর্ণধার আলেক্সান্ডার গিনটসবার্গ বলেছেন, প্রথম দফায় টিকা দেওয়া হয়েছিল যাঁদের, প্রত্যেকের শরীরেই ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, টিকার একটি ডোজেই বি-কোষ ও টি-কোষ সক্রিয় হয়েছে। ভাইরাস প্রতিরোধী ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে শরীরে।
দ্য মস্কো টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলেক্সান্ডার জানিয়েছেন, স্পুটনিক ভি টিকার একটি ডোজেই অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে শরীরে। টিকার সাফল্যের এটা সবচেয়ে বড় দিক বলে দাবি করেছেন আলেক্সান্ডার। তাঁর বক্তব্য, সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের প্রতিরোধে রক্তের বি-লিম্ফোসাইট কোষকে সক্রিয় করে অ্যান্টিবডি তৈরি করছে এই টিকা। টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ২১ দিনের মাথায় রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়ে যাচ্ছে। আলেক্সান্ডারের দাবি, এই টিকার একটি ডোজেই কাজ শুরু হবে, দ্বিতীয় ডোজ আরও বেশি ইমিউনিটি তৈরির জন্য।
প্রথম দফায় টিকাকরণের ফলাফল সামনে এনে গ্যামেলিয়া আরও দাবি করেছে, যাঁদের এখনও অবধি টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে তাঁদের কারও শরীরেই কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দুটি ডোজ দেওয়ার মাঝের সময়ে যে কয়েকজনের শরীরে সাইড এফেক্টস দেখা গিয়েছিল তাও সামান্য। কিছুদিনের মধ্যে সেরে উঠেছিলেন তাঁরা।
সেপ্টেম্বরের প্রথমেই আমজনতার জন্য টিকার ডোজ নিয়ে আসে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি এবং রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড। সরকারি তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, স্পুটনিক ভি টিকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সক্ষম। প্রথম দুই পর্বের ট্রায়ালে সে প্রমাণ মিলেছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টও ভাল। এই পর্যায়ে বহু মানুষের শরীরে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে দেখা গেছে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কোয়ালিটি টেস্টে পাশ করার পরে মেডিক্যাল ডিভাইস রেগুলেটরের অনুমতিও মিলেছে। রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের সদস্য ডেনিস লগুনভ বলেছেন, টিকার সেফটি ও কোয়ালিটি চেকের পরে গণ-প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
প্রসঙ্গত, টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ও উৎপাদনের জন্য ভারতের সাহায্য চেয়েছে মস্কো। রাশিয়ার এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ভি কে পল বলেছেন, ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলির সঙ্গে চুক্তি করে এ দেশেও টিকার ট্রায়াল ও উৎপাদনের আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার ভ্যাকসিন বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডাইরেক্ট ইনভেস্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) জানিয়েছে, ভারতের প্রথম সারির ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি হায়দরাবাদের ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবকে টিকার ডোজ বেচতে পারে তারা। প্রাথমিকভাবে যা কথা হয়েছে তাতে ১০ কোটি টিকার ডোজের জন্য রেড্ডি’স-এর সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথাবার্তা চলছে।