
শেষ আপডেট: 2 August 2020 18:30
মহাকাশে প্রথম মানুষ নিয়ে গেছে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স। এই মহাকাশযাত্রাকে ঐতিহাসিক বলেছিল নাসা। ২০১১ সালের পরে প্রথমবার আমেরিকার মাটি থেকে ‘ম্যানড মিশন’ এর কৃতিত্ব দেখিয়েছে নাসা ও স্পেস-এক্স। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে টানা ৬২ দিন কাটিয়ে পৃথিবীকে প্রায় ১০২৪ বার চক্কর কেটে নিরাপদেই পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন দুই নভশ্চর অ্যাস্ট্রো-বেনকেন ও অ্যাস্ট্রো-হার্লে।
https://twitter.com/NASA/status/1289996966424907776
‘মেক্সিকোর উপকূলে আরও একবার ইতিহাস তৈরি হল। পৃথিবীতে তোমাদের স্বাগত। অসাধারণ কাজ করেছে নাসা ও স্পেস-এক্স’, টুইট করে এমনটাই জানিয়েছেন নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জিম ব্রিডেনস্টাইন। ১৯৭৫ সালে অ্যাপোলো-সুয়েজ টেস্ট প্রজেক্টের পরে স্পেস-এক্স ডেমো-২ টেস্ট ফ্লাইট মিশনে মহাকাশে ঘুরে পৃথিবীতে নামলেন নভশ্চররা। থমাস স্ট্যাফর্ড, ভান্স ব্র্যান্ড ও ডোনাল্ড স্লেটনের পরে নজির গড়লেন অ্যাস্ট্রো-বেনকেন ও অ্যাস্ট্রো-হার্লে।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯-এ লঞ্চ প্যাড থেকে স্পেস-এক্সের ডেমো-২ টেস্ট ফ্লাইট পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে উড়ে গিয়েছিল গত ৩০ মে। ফ্যালকন ৯ রকেটের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে ছিলেন রবার্ট বেনকেন ও ডগলাস হার্লে। এই রকেট তার খোলস ছেড়ে পৃথিবীর কক্ষে পাক খেয়ে ৪০০ কিলোমিটার উপরে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছেছিল ১৯ ঘণ্টা পরে।
https://twitter.com/NASA/status/1290083331288301574
আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে শূন্য মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে কাজ করেছেন বেনকেন ও হার্লে। ১০০ ঘণ্টা স্পেস স্টেশনের ল্যাবরেটরিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে তাঁদের। ডগলাস হার্লের প্রজেক্ট ছিল মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে ড্রপলেট তৈরির গবেষণা, মাইক্রোগ্র্যাভিটি সায়েন্স গ্লভবক্স (MSG) । তাছাড়া শূন্য মাধ্যাকর্ষণে গ্যাস ও তরল নিয়ে গবেষণাও ছিল দু’জনের প্রজেক্টে। ইলেকট্রোলাইসিস মেসারমেন্ট সংক্রান্ত নানা গবেষণা করেছেন দুই নভশ্চর। বিভিন্ন সময় পৃথিবীর নানা ছবি তুলেও পাঠিয়েছেন গ্রাউন্ড স্টেশনে। তাছাড়া সিইও ইমেজ (ক্রু আর্থ অবজারভেশন) নিয়েও আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে কাজ করেছেন বেনকেন ও হার্লে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর জলবায়ুতে যে বদল আসে তার আভাস পাওয়া যায় এই ইমেজে। বন্যা, ভূমিকম্প, মানুষের তৈরি দূষণ, আগ্নেয়গিরির ফুঁসে ওঠা ইত্যাদিও ধরা পড়ে এই ইমেজে।
১৯৮১ সাল থেকে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থিত আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে মানুষ নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে নাসা। তাদের পাঁচটি মহাকাশযান এই স্পেস-প্রোগ্রামের অংশ। ১৯৮১ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত পৃথিবী থেকে আইএসএসে ১৩৫ বার যাত্রা করে ফেলেছে নাসার বানানো ওই পাঁচ মহাকাশযান। তবে সেটাই শেষ। তার মাঝে দুবার ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটে। ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জার ও ২০০৩ সালে কলম্বিয়া মহাকাশযান দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে যায়। শেষবারের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা। এর পর থেকেই মহাকাশ অভিযানে লাগাম টানে নাসা। বিশেষত ম্যানড মিশন কমিয়ে দেওয়া হয়। ২০১১ সালেই অবসর নেয় নাসার আরও তিন মহাকাশযান ডিসকোভারি, আটলান্টিস ও এনডেভার। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যেতে হলে রাশিয়ার তৈরি স্পেসক্রাফ্টই ব্যবহার করেছে নাসা। বদলে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সুবিধা পেয়েছে রাশিয়া।
২০১১ সালের পর থেকে ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সঙ্গে হাত মেলায় নাসা। ইলনের সংস্থা স্পেসক্রাফ্ট তৈরির জন্য বিশ্বে জনপ্রিয়। স্পেস এক্স ও নাসা মিলে ফের পরিকল্পনা সাজায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্পেসক্রাফ্ট দিয়েই মহাকাশ অভিযান করা হবে। টানা ৬ বছরের প্রচেষ্টায় এই ম্যানড-মিশন সফল হয় এ বছরে। নাসা ও স্পেস-এক্সের জুটির আরও অনেক মহাকাশ অভিযানে পরিকল্পনা আছে আগামী বছরগুলিতে। চাঁদে, মঙ্গলে এবং কয়েকটি গ্রহাণুতে ম্যানড-মিশন হতে পারে।
ছবি সৌজন্যে: নাসা