
শেষ আপডেট: 25 March 2019 10:55
দলজিন্দর একটি ইংরেজি দৈনিককে বলেছেন, তিনি যতটা ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন লাগছে গোটা বিষয়টা। আরমানের হামাগুড়ির সঙ্গে দৌড়ে পেরে উঠছেন না ৭২ এর দলজিন্দর। তাঁর লো ব্লাড প্রেশার হয়ে গেছে, তাড়াতাড়ি কাহিল হয়ে পড়ছেন তিনি। বারবার ডাক্তার বদলাতে হচ্ছে তাঁকে , আর মুঠো মুঠো ওষুধ খেতে হচ্ছে। বরং তিনি অনেক বেশি চিন্তিত কি করে আরমানকে আরও ভালোভাবে রাখা যায় তা নিয়ে।
দলজিন্দরের বর মোহিন্দর ৮০ বছরের এক কৃষক। তাঁদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত খুব একটা সহজ ছিল না মোটেও। সাধারণভাবে চেষ্টা করার পরেও যখন সাফল্য আসেনি, তখন তাঁরা বাধ্য হয়েছিলেন মেডিক্যালি বিষয়টা নিয়ে ভাবতে। সাফল্য আসে, আইভিএফের মাধ্যমে। তাঁদের ঘরে আসে সুস্থ সন্তান। প্রায় ২ কেজি ওজনের আরমানের জন্ম ২০১৮ এর এপ্রিলে।
দলজিন্দরের যখন ৬০ বছর পেরোয় তখন তাঁরা আইভিএফ সম্পর্কে বিজ্ঞাপন দেখেন এবং নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু খরচ তো অনেক! তাতেও পিছিয়ে যাননি এই পাঞ্জাবি দম্পতি। নিজেদের জমি বেচে শুরু করেন চিকিৎসা। শুধুমাত্র নিজের সন্তান চেয়েছিলেন বলে। হরিয়ানার একটি ক্লিনিকে তাঁরা ট্রিটমেন্ট শুরু করেন। প্রায় ২ বছরের তিনটি সাইকেলের চেষ্টায় দলজিন্দরের কোলে আসে আরমান। ডোনারের এগ নিয়ে শুরু হয় চিকিৎসা। হিসারের ন্যাশনাল ফার্টিলিটি অ্যান্ড টেস্টটিউব বেবি সেন্টারের এমব্রায়োলজিস্ট এবং মালিক অনুরাগ বিষ্ণোই বলছেন, এই পাঞ্জাবি মহিলার কোনও বার্থ সার্টিফিকেট নেই, তবে তিনি বলেছিলেন তাঁর বরের জন্ম ১২ই এপ্রিল ১৯৩৭ এ। আর তিনি মোহিন্দরের থেকে ৫ থেকে ৭ বছরের ছোট। সেই হিসেবেই তাঁর বয়সটা ধরে নেওয়া হয়েছে।
বিষ্ণোই প্রথমে এই কেসে খুবই গা ছাড়া ভাব দেখান। তাঁর মনে হয়েছিল এটা সম্ভব নয় যখন তাঁদের এতটা বয়স হয়ে গেছে। শারীরিকভাবে সমস্যা হতে পারে তাঁদের। কিন্তু সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় এই অতি উৎসুক মা বাবার ইচ্ছেতেই। তাতে রিপোর্টও আসে খুব স্বাভাবিক। বিষ্ণোই হলছেন, সমস্যা নেই দেখেই তিনি এই বিষয়ে আগ্রহ দেখান এবং সাফল্য আসে। প্রায় ২ কেজি ওজনের আরমান জন্মায়, যার এখন ওজন প্রায় ৭ কেজি।
এই ওজন বয়স অনুপাতে কম। এ বিষয়ে দলজিন্দর বলছেন, তিনমাসের পর আর ব্রেস্টফিড করাতে পারেননি তিনি তাই হয় তো আরমান আন্ডারওয়েট। তাই ছেলে খুব রোগা পাতলা এবং তাঁর বয়সের যে ডায়পার তা পরানো যায় না তাকে। দলজিন্দরের শরীরে আর দুধ তৈরি হচ্ছিল না তাই এই সমস্যা বলে মনে করছেন তিনি। এমনকি তিনি ডাক্তারদের বলেওছেন যাতে কোনও ওষুধ দিয়ে আরমানের বৃদ্ধি আরেকটু তাড়াতাড়ি করা যায়। কিন্তু ডাক্তাররা তাঁকে বলেছেন স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হওয়াটাই ভালো। তাই আপাতত সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন ছোট্ট আরমানের মা।
দলজিন্দর খুবই আবেগপ্রবণ আরমানের ব্যপারে। তিনি যেখানেই থাকেন আরমান হাসতে হাসতে হামাগুড়ি দিয়ে তাঁর কাছে চলে আসে বলছেন আনন্দিত এই ৭২ এর মা। এতটাই প্রাণবন্ত আরমান যে তাকে নিয়েই অর্ধেক সময় কেটে যায় দলজিন্দরের। এমনকি এপ্রিলে এক বছরের জন্মদিনে আরমানকে নিয়ে পুরো পরিবার অমৃতসরে গোল্ডেন টেম্পলেও যাবেন বলে প্ল্যান করেছেন তাঁরা। আর ৮০ বছরের বাবা বলছেন, আরমানকে নিয়ে তাঁর কোনও চিন্তাই নেই। তাঁর ভরসা আছে ঈশ্বরের উপরে, তাঁদের বয়স হয়ে গেছে, তাই পরবর্তীকালে আরমানকে কে দেখবে এই প্রশ্ন প্রতিবেশীরা করলে তিনি সপাটে এই উত্তরই দিচ্ছেন।
অতএব ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় আজও।