গত ৬ জুন ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছেছিলেন কলকাতার অধ্যাপক। আপাতত হোটেলের ঘরে বন্দি তিনি।
.jpeg.webp)
ইরানে আটকে থাকা কলকাতার অধ্যাপক ফাল্গুনি দে।
শেষ আপডেট: 17 June 2025 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্বতোরোহণের (Mountaineering) নেশায় গিয়েছিলেন ইরানে (Iran)। গত শনিবার তেহরান থেকে ওমানের বিমান ধরে, সেখান থেকে মুম্বই হয়ে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল অধ্যাপক ফাল্গুনি দে'র।
কিন্তু বিধি বাম। গত শুক্রবার থেকে ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তখন থেকেই হোটেলে বন্দি কলকাতার এই অধ্যাপক (Indian Professor stuck in Iran)।
এক ভিডিওবার্তায় ভারত সরকারের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন তিনি, "পর্বতারোহনের নেশায় আগেও বহু দেশ বিদেশ গিয়েছি। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম। খাবার, টাকা পয়সা সব ফুরিয়ে আসছে। হোটেলের জানালা খুললেই বোমার আওয়াজ। সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ, দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন।"
মধ্য তেহরানের তালেঘানি এলাকার একটি হোটেলে আটকে রয়েছেন মাসাদ। অধ্যাপকের কথায়, "লাগাতার বোমা পড়ার শব্দ হচ্ছে। হোটেলের ঘরে আমি আটকে। একা একটা ঘরে। রাস্তায় যতটা সম্ভব কম বেরোতে বলা হচ্ছে। বুঝতেই পারছি না কী হবে, কী করব! কলকাতায় ফিরতে পারব তো?"
ভিডিও বার্তায় দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেছেন ফাল্গুনিবাবু। তাঁর কথায়, "শুক্রবার সন্ধেবেলা থেকে শুরু হল বোমার আওয়াজ। একটার পর একটা। প্রথমে তো বুঝতেই পারছিলাম না কী হল, কী হচ্ছে! শুধু ভয় লাগছিল। একদম একা একা, অচেনা জায়গায় এমন বিপদে পড়ে গেলাম, কী হবে কে জানে! হোটেলের বাকিদের অবস্থাও এক।"
তেহরান থেকে সড়কপথে দু’ঘণ্টা দূরত্বে রয়েছে বোর্জ পর্বত। সেখানেই রয়েছে এশিয়ার উচ্চতম আগ্নেয়গিরি দামাবান্দ শৃঙ্গ। সেখানেই সামিটের উদ্দেশে গত ৬ জুন ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছেছিলেন কলকাতার অধ্যাপক। আপাতত হোটেলের ঘরে বন্দি তিনি।
ফাল্গুনিবাবু একা নন, ইরানে আটকে রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ভারতীয়। এদের মধ্যে বহু ছাত্রও রয়েছেন। আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে ইতিমধ্যে সেদেশের সঙ্গে কথা বলেছে ভারত সরকার। ভারতের প্রস্তাব মেনে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে পারেন। ফলে সড়কপথে আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান ও আফগানিস্তানের রাস্তা ধরে ভারতীয়দের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্র।