দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের হাজারটি ল্যাবরেটরিতে কোভিড টেস্টিং শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দু’লাখের কাছাকাছি করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী দেশে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়েছে। করোনা সক্রিয় রোগী তথা অ্যাকটিভ কেস ১ লাখ ৮৩ হাজারের কাছাকাছি। একদিনের হিসেবে সংক্রমণ বৃদ্ধি চিন্তা বাড়িয়েছে। আজ সকালেই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত ১৬ হাজারে পৌঁছেছে, একদিনে যা সর্বাধিক। আইসিএমআর জানিয়েছে, করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে। আরও বেশি সংখ্যক কোভিড পজিটিভ রোগীকে চিহ্নিত করে আলাদা করার কাজ চলছে। জোর দেওয়া হয়েছে কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ে।
https://twitter.com/ICMRDELHI/status/1275642979072585731
ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করে। মার্চের শেষে এক লাফে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড জায়গায় পৌঁছয়। আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভিড টেস্ট আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি ল্যাবরেটরির পাশাপাশি বেসরকারি ল্যাবরেটরি ও ক্লিনিকগুলিকেও এই কাজে নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে দেশের ৭৩০টি সরকারি ও ২৭০টি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষার কাজ চলছে। ২২ জুন অবধি মোট ৭১ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সোমবারই ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৩টি স্যাম্পেল পরীক্ষা করা হয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেস্টিং সেন্টারে।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে তিন ‘টি’-এর কথা বলেছিল আইসিএমআর। তিন ‘টি’ অর্থাৎ টেস্টিং (Testing), ট্রেসিং (Tracing) এবং চিকিৎসা অর্থাৎ ট্রিটমেন্ট(Treatment) । আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গব বলেছেন, কোভিড টেস্টিং বাড়লে করোনা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা যাবে আর কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়ালে একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করে আলাদা করে ফেলা যাবে। ডক্টর বলরামের কথায়, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার রুখতে এই কনট্যাক্ট ট্রেসিং সবচেয়ে বেশি জরুরি। সংক্রামিতদের কাছাকাছি আসা বা সংক্রমণ সন্দেহে থাকাদের চিহ্নিত করতে পারলেই কোভিড পজিটিভিটির হার কমবে। একজন রোগীর থেকে অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে। ভাইরাসের সংক্রমণ একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই বেঁধে ফেলা যাবে। বেঙ্গালুরুতে এই কনট্যাক্ট ট্রেসিং মডেলেই সাফল্য মিলেছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লির তুলনায় অনেকটাই কম।
আইসিএমআর জানিয়েছে, রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) টেস্টিং হয়েছে অনেক বেশি। এখনও অবধি ৭০ লাখ আরটি-পিসিআর কোভিড টেস্টিং হয়েছে সারা দেশে। তবে আরটি-পিসিআরের খরচ বেশি বলে এখন করোনা পরীক্ষার জন্য র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টিং এবং ট্রুন্যাট মেশিনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রুন্যাটের কাজ হল আরএনএ ভাইরাসের এমন উপাদানকে চিহ্নিত করা, যার দ্বারা সহজেই বলে দেওয়া যাবে নমুনার মধ্যে ভাইরাল স্ট্রেন রয়েছে কিনা। অর্থাৎ রোগী কোভিড পজিটিভ কিনা। এই ট্রুন্যাট মেশিনে একসঙ্গে তিন-চার রকম রোগের টেস্ট সম্ভব। মেশিনে ৩২ টা স্যাম্পেল দিয়ে যদি রোগীর টেস্ট প্রোফাইলের ডেটা দিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে একই সঙ্গে কোভিড-১৯, এইচআইভি ও টিবি টেস্টের রিপোর্ট দিয়ে দেবে এই মেশিন। আইসিএমআরের অনুমোদনে উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলায় এখন ১১৭টি ট্রুন্যাট মেশিন বসছে। বিহার ৫০টা মেশিনের অর্ডার দিয়েছে, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড়, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশেও এই ট্রুন্যাট মেশিন বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি এসডি বায়োসেন্সরের তৈরি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট দিয়েও করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে প্রথম অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট দিয়ে কোভিড সংক্রমণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।