২৬-এর বিধানসভা ভোটে বাংলার রাজনীতির বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে তাঁর দল - এই দাবি নিজেই করে ফেলেছেন হুমায়ুন। তাঁর আরও সংযোজন, তৃণমূল বা বিজেপি - কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার গড়তে হলে তাঁদের প্রয়োজন হবে।

শুভেন্দু অধিকারী, হুমায়ুন কবীর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 December 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মসজিদ বিতর্কে (Masjid) দল থেকে সাসপেন্ড (Suspend) হয়েও নিজের হাবভাব বদলাননি হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) রায়ের পর নির্ধারিত দিনেই মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) মসজিদের শিলান্যাস করেছিলেন তিনি। সেদিন রেকর্ড ভিড়ের সাক্ষী থেকেছিল রাজ্য। এই আবহেই হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, নিজের দল বানিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (WB Polls 2026) অন্তত ১৩৫ আসনে লড়বেন। এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) হারানোর পণ করলেন ভরতপুরের বিধায়ক।
দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর হুমায়ুনের স্পষ্ট বার্তা ছিল - তাঁর বিরোধী শুধু তৃণমূল (TMC) হবে না। বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধেও লড়াই করবেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একা নন, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধেও কার্যত 'যুদ্ধ' ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। জানিয়েছেন, ভবানীপুর (Bhawanipore) এবং নন্দীগ্রাম (Nandigram) দুই জায়গাতেই তিনি জোরদার প্রার্থী দেবেন এবং এক ইঞ্চি জমি ছাড়বেন না! সাসপেন্ডড তৃণমূল নেতার (Suspended TMC Leader) বক্তব্য, নিজের দল বানান বা যাই করুন, এই দুই দলকে হারাতেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। ২০২৬ বিধানসভা ভোটে সেই লড়াই দেখবেন সাধারণ মানুষ।
২৬-এর বিধানসভা ভোটে বাংলার রাজনীতির বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে তাঁর দল - এই দাবি নিজেই করে ফেলেছেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)। তাঁর আরও সংযোজন, তৃণমূল বা বিজেপি - কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার গড়তে হলে তাঁদের প্রয়োজন হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলে রাখা ভাল, আসাউদ্দিন ওয়েইসির (Asauddin Owisi) দল মিম-এর (AIMIM) সঙ্গে তাঁর জোটের একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত, তাও এই সময়েই তাঁর মমতা-শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের ঘোষণা গোটা ইস্যুকে আরও উত্তেজক করে তুলেছে।
প্রসঙ্গত, হুমায়ুন আগেই বলেছিলেন, ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে নিজের দলের (Own Party) ঘোষণা করবেন। যদিও এখন সেই খবরের চেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি করেছে তাঁর মসজিদ নির্মাণের জন্য টাকার উৎসের বিষয়টি। মসজিদের অনুদানের জন্য ১১টি বাক্স বসিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir Babri Masjid)। অল্প সময়ের মধ্যেই সবকটি ভরে গেছে। এছাড়া অনলাইনেও দূর-দুরান্ত থেকে অনুদানের টাকা আসছে। দান বাক্সে ৫০০ টাকার নোট থেকে শুরু করে খুচরো, সবই পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই দান করেছেন সোনা, যার বাজারমূল্য লাখে পৌঁছেছে। এখনও কয়েকটি বাক্স পড়ে আছে, সেগুলিও গোনার কাজ চলছে।
ক'দিন আগেই আবার প্রাণনাশের হুমকি আসছে বলে দাবি করেছিলেন হুমায়ুন। তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, মেরে ফেললেও তিনি মু্র্শিদাবাদে মসজিদ তৈরি করে ছাড়বেন। যদিও নিজের নিরাপত্তার জন্য আট আটজন নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা তিনি করে ফেলেছেন। মঙ্গলবারই হায়দরাবাদ থেকে এসেছেন বাউন্সাররা।
আসলে মসজিদ নির্মাণের ইস্যুতে অনেক আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিলেন হুমায়ুন। সেই কারণেই তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, বিজেপির হয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন হুমায়ুন। বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন। ৩ বার তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টায়নি। তাই দল থেকে এবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা গেল, বিজেপির বিরুদ্ধেও সমান সুর চড়াচ্ছেন ভরতপুরের বিধায়ক।
যদিও মসজিদের শিলান্যাসের দিনই তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল - কলকাতা হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে মসজিদ নির্মাণ অসাংবিধানিক নয়, তাই এই মসজিদের ইট তিনি কাউকে খুলতে দেবেন না। এখন মসজিদ নির্মাণ বিতর্ক থেকে ফের একবার রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ বাড়ালেন হুমায়ুন।