
যুবককে পিটিয়ে খুন। প্রতীকী চিত্র।
শেষ আপডেট: 1 July 2024 17:59
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আবারও গণপিটুনিতে মৃত্যু। চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল তারকেশ্বর থানার নাইটা মাল পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রানাবাঁধ এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম বিশ্বজিৎ মান্না(২৩)। গাড়ি চালাতেন ওই যুবক। পরপর গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন।
পরিবারের দাবি, বিকাশ সামন্তর ছেলে দেবকান্ত সামন্ত রবিবার রাতে বিশ্বজিৎকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিকাশ সামন্তর বাড়ি থেকে বিশ্বজিৎ ৫০ হাজার টাকা চুরি করেছে বলে দাবি করতে থাকে। টাকা ফেরত চায়। কোথায় রেখেছে তা বার করে দিতে বলে। বিশ্বজিৎ টাকা নেয়নি বলে জানাতেই বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। বিশ্বজিতের মা বলেন, "রাস্তায় ফেলে পিভিসি পাইপ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ওকে। বারবার ওদের পা ধরে আকুতি মিনতি করেছি। বারবার বলেছি আমার ছেলে চুরি করতে পারে না। আমার কোনও কথাই শোনা হয়নি। ছেলেটাকে মারতে মারতে মেরে ফেলল।”
বিশ্বজিতের দাদাকে ফোন করে মা রুমা মান্না এই ঘটনার কথা জানান। পুলিশকে খবর দিতে বলেন।বিশ্বজিতের দাদা অভিজিৎ চাপাডাঙ্গায় পুলিশকে ঘটনার কথা জানায়।পুলিশ গিয়ে আহত বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনায় বিকাশ সামন্ত, তাঁর ছেলে দেবকান্ত সামন্ত ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিশ্বজিতের দাদা অভিজিৎ বলেন, "যারা ভাইকে খুন করেছে তারা আমাদের আত্মীয়। ভাই চুরি করেনি, তাও তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে লাঠি পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়েছে।"
শনিবারই হুগলির পাণ্ডুয়ায় সামান্য বচসার জেরে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় এক যুবককে। পান্ডুয়ার দ্বারবাসিনীর সেই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দ্বারবাসিনীর গরুইগেড়ে গ্রামের বাসিন্দা আশিস বাউল দাস(২৬) বন্ধুদের সঙ্গে বিষহরিতলার মেলা দেখে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গমুকপাটি এলাকায় মনসা পুজোর মাইক বাজানো নিয়ে একটা গন্ডগোল চলছিল। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় আশিসের গায়ে ধাক্কা লাগে এক গ্রামবাসীর। সেই নিয়ে বচসা তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, আশিসকে বাইক থেকে কলার ধরে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। বুকে লাথি মারা হয় রাস্তায় ফেলে। বন্ধু তাঁকে ছাড়িয়ে কোনও ভাবে বাড়ি নিয়ে যায়। রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। শুক্রবার রাতে রক্ত বমি শুরু হওয়ায় পান্ডুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আশিসকে। সেখান থেকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে রেফার করা হয়। অবস্থা সংকটজনক থাকায় তাঁকে আইসিইউতে দিতে বলেন চিকিৎসক। কিন্তু বেড না থাকায় কল্যাণীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই মৃত্যু হয় আশিসের।