দ্য ওয়াল ব্যুরো: অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্র গিরির (narendra giri) আত্মহত্যার পর প্রয়াগরাজের বাঘাম্বরী মঠে তাঁর দেহ সৎকার করা হয়েছে। কিন্তু সেই থেকে পিছু ছাড়ছে না নানাবিধ বিতর্ক ও জল্পনা। সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন আনন্দ গিরি (anandagiri), একসময়ে যিনি নরেন্দ্রর প্রিয় শিষ্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কারণ নরেন্দ্রর লিখে যাওয়া ৭ পাতার সুসাইড নোটে আনন্দ গিরি-সহ কয়েকজনের নাম রয়েছে৷ তাঁরা নরেন্দ্র গিরিকে 'হুমকি দিয়ে আত্মহত্যার জন্য বাধ্য করেছে' বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও মঠ ঘিরে একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে তাতে৷ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ও উঠে এসেছে নোটে। পুলিশ সূত্রের খবর, সুইসাইড নোটে নরেন্দ্র গিরি তাঁর উত্তরাধিকারের বিষয়টিও লিখে গিয়েছেন। এর পেরই নরেন্দ্র গিরি ও তাঁর শিষ্য আনন্দ গিরির ‘গুরু-শিষ্য’ সম্পর্ক নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে৷ গতকাল, বুধবার আনন্দ গিরিকে গ্রেফতারও করেছে প্রয়াগরাজ পুলিশ। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নরেন্দ্র গিরির আরও এক শিষ্য আদ্যা প্রসাদ তিওয়ারিকেও।
কে এই আনন্দ গিরি (anandagiri)?
প্রয়াগরাজের বড়ে হনুমান মন্দিরের পুরোহিত, ৩৮ বছরের আনন্দ গিরি নিজেকে ধর্মগুরু এবং যোগাগুরু বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরে তাঁর বিলাসবহুল ও উশৃঙ্খল জীবনের নানা ছবি। কখনও দেখা যায় বিলাসবহুল হোটেলের নরম গদিতে গা ডুবিয়ে আরাম করছেন তিনি, কখনও বা সমুদ্রের সৈকতে সাঁ সাঁ করে ছোটাচ্ছেন নামিদামী গাড়ি ও মোটরবাইক।
রাজস্থানের ভিলওয়াড়া গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্মেছিলেন তিনি। ১২ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে হরিদ্বারে গিয়ে গুরুকূলে যোগ দেন। বেদ এবং সংস্কৃত চর্চা করার জন্যই এই কাজ করছিলেন তিনি, এমনটাই দাবি করেন। তাঁর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা আছে, বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হয়েছেন তিনি।
পরে প্রয়াগরাজের বাঘাম্বরী মঠে এসে যোগ দিয়ে নরেন্দ্র গিরির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন তিনি। বড়ে হনুমান মন্দিরের মহান্ত নরেন্দ্র গিরিই আনন্দর পরিচয় করান নিরঞ্জন আখড়ার সঙ্গে। সেই থেকেই তিনি নরেন্দ্রর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ শিষ্য বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। মন্দিরের উপ-মহান্ত পদেও বসেন তিনি। এর পরেই মন্দির চালনার দায়িত্বের পাশাপাশি যোগব্যায়ামও করতে শুরু করেন। যোগাগুরু হিসেবে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে পৌঁছতে শুরু করেন, তাঁর বক্তৃতাও ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।