দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রিন্স চার্লস দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে। আর এর পেছনে নাকি রয়েছে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা! এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী শ্রীপদ যশো নায়েক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আয়য়ুষ মন্ত্রক অর্থাৎ আয়ুর্বেদ, যোদা, ন্যাচারোপ্যাথি ইউনানি, সিদ্ধা এবং হোমিওপ্যাথি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় যে সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির কথাই বলুক না কেন, সব ক'টি প্রস্তাবই ভাল করে খতিয়ে দেখবেন বিজ্ঞানীরা।
বুধবার গোয়ায় একটি সাংবাদিক বৈঠকে আয়ুষ মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্দেশ দিয়েছেন, আমাদের মন্ত্রকের প্রতিটি বিভাগ যাতে এই মহামারীতে কী করে কোন ওষুধ কাজ করতে পারে তা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে চর্চা করে। আমরা একটা সিস্টেম তৈরি করেছি এবং সমস্ত আয়ুষ অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থাকে তাঁদের প্রস্তাব পাঠাতে বলছি। একদল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করে দেখবেন সেগুলির কার্যকারিতা। এই ভাবে আমরা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে পারব।"
তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি ঠিক করার কারণ হল, অনেকেই এদিক-ওদিক থেকে দাবি করছিলেন যে অল্টারনেটিভ মেডিসিন ব্যবহার করে তাঁরা করোনার চিকিৎসা করতে সক্ষম। এর অধিকাংশই ভুয়ো দাবি। গবেষণালব্ধ কোনও তথ্যপ্রমাণ নেই। এমনটা কেউ করলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে এখন থেকে। যাঁর যা জানানোর আছে, সকলে যেন পদ্ধতি মেনে মন্ত্রকের কাছে পাঠান।
তবে প্রিন্স চার্লসের সেরে ওঠার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন মন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে বলেন, "প্রিন্স চার্লস আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছেন বলে অনেকগুলি রিপোর্ট বেরিয়েছে। আমায় বেশ কয়েক জন চিকিৎসকও এমনটা জানিয়েছেন। যদিও আমার কাছে এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই। ফলে আমাদের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়ে বুঝতে হবে, সত্যিই এমনটা হতে পারে কিনা।"
তিনি জানান, মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও আয়ুষের সদস্যদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। কেউ কোনও রকম অপ্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতি দাবি করলে তাঁদের মানা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে এবিষয়ে আরও কড়াকড়ি হবে। আমরা প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণ করে, সেগুলি পরীক্ষা করে, গবেষণা করে, কোনও ইতিবাচক ফল পেলে তবেই তা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী হিসেবে প্রচার করতে পারি। তার আগে নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে করোনা পজ়িটিভ রোগীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬৪। এর পরেই আয়ুষ পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত প্রস্তাব পৌঁছয় মন্ত্রকের তরফে। দাবি করা হয়, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার করা হোক করোনা সংক্রমণ রুখতে।