দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বন্দে মাতরম’ সমবেত কণ্ঠের স্লোগান উঠল। সেনা জওয়ানদের সঙ্গে গলা মেলাল আম জনতা। চোখের জল মুছে দৃপ্ত কণ্ঠে সন্তানহারা বাবা বলে উঠলেন ‘ভারত মাতা কি জয়’। চারপাশ থেকে ধ্বনিত হল ‘মেজর অনুজ সুদ অমর রহে’ । গর্জে উঠল রাইফেল। তেরঙায় মোড়া বীর শহিদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হল চিতাকাঠের দিকে। দাউদাউ আগুনে শরীরটা পুড়ল, কিন্তু কোটি কোটি দেশবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে গেলেন শহিদ মেজর অনুজ সুদ।
শ্রীনগর থেকে সোমবার বিকেলেই মরদেহ এসে পৌঁছেছিল হরিয়ানার পাঁচকুলায়। মেজর অনুজের বাড়িতে। আজ, মঙ্গলবার দুপুরে সেখান থেকেই সেনার গাড়িতে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মনি মাজরার শ্মশানে। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বীর শহিদের।
https://twitter.com/manaman_chhina/status/1257597135106609153
দু’চোখে ক্লান্তি, মন ক্ষতবিক্ষত, মেজর অনুজের নব বিবাহিতা স্ত্রী আকৃতিও ছিলেন শেষকৃত্যের সময়। দেশের জন্য শহিদ হওয়া ছেলেকে গর্বের সঙ্গেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মনি মাজরার শ্মশানে ছিলেন প্রাক্তন সেনা ব্রিগেডিয়ার বাবা চন্দ্রকান্ত সুদ, মা ও শহিদ মেজরের দিদি হর্ষিতা। তিনি নিজেও একজন সেনা অফিসার।
“দেশের আদর্শ সন্তান। সবচয়ে বড় স্বার্থত্যাগ করেছে আমার ছেলে, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে”, বলেছেন সন্তানহারা গর্বিত বাবা।
হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে লস্কর জঙ্গিদের নিকেশ করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ২১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্নেল আশুতোষ শর্মা, মেজর অনুজ সুদ, নায়েক রাজেশ, ল্যান্স নায়েক দীনেশ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাব-ইনস্পেকটর শাকিল কোয়াজি। সেনা সূত্রে খবর, এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল আশুতোষ। তাঁর ভরসার পাত্র ছিলেন মেজর অনুজ। রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের বাকি জওয়ান ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক অফিসারকে নিয়ে তাঁরাই জঙ্গিদের কব্জা করতে চাঙ্গিমুল্লার সেই বাড়িতে ঢুকেছিলেন। কিন্তু জঙ্গি নিকেশ করে বিজয় উল্লাসে ফিরতে পারেননি। মৃত্যুতেই নিঃশব্দে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গিয়েছেন।
৩১ বছরের ঝকঝকে তরুণ আজ দেশের বীর শহিদের সম্মান পেয়েছেন। জঙ্গিদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন অকুতোভয়ে। শ্বাস থেমে যাওয়ার আগে অবধি লড়াই করেছেন বীর বিক্রমে। নিকেশ করে গেছেন দুই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিকে। সেনা অফিসার হতে চাইত, দেশের জন্য কাজ করতে চাইত, অনুজ খুবই সাহসী, কর্তব্যে কখনও গাফিলতি দেখা যায়নি, জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার চন্দ্রকান্ত। তিন-চার মাস আগেই বিয়ে করেন অনুজ। তবে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে উপত্যকার নিরাপত্তাই তাঁর কাছে মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। পঞ্জাবে ফিরবেন বলেছিলেন, কিন্তু জঙ্গিদের খতম করেই। কথা রেখেছেন অনুজ। বাবা চন্দ্রকান্ত জানিয়েছেন, ছেলে ফিরেছে, বীর শহিদের সম্মান নিয়েই।