
শেষ আপডেট: 31 August 2020 18:30
টাটা পাওয়ার কোম্পানি ও লার্সেন অ্যান্ড টার্বো তৈরি করবে পিনাকা সিস্টেমের ১১৪ টি লঞ্চার ও অটোমেটেড গান এবং পজিশনিং সিস্টেম। ভারত আর্থ মুভার্স দেবে ৩৩০টি আর্মড ভেহিকল। নর্দার্ন ও ইস্টার্ন বর্ডারে মোতায়েন করা হবে এই সিস্টেম।
পিনাকা মিসাইল তার মারণ ক্ষমতার প্রমাণ আগেও দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মারণ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিতে আরও বদল ঘটিয়ে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র বানিয়েছে ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। মার্ক-১-এ এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০ কিলোমিটার, আর মার্ক-২-তে ৭৫ কিলোমিটার।
বর্তমানে এই মিসাইলের পাল্লা আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন ৯০ কিলোমিটার দূরত্বের যে কোনও বস্তুকে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র। ডিআরডিওর সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে পুণের আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্ট্যাব্লিশমেন্ট (ARDE), রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI), ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবোরেটরি (DRDL), প্রুফ অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল এস্ট্যাব্লিশমেন্ট (PXE) এবং হাই এনার্জি মেটিরিয়াল রিসার্চ ল্যাবোরেটরি (HEMRL)।
এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মস রয়েছে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। রাশিয়া যে মাঝারি পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বানিয়েছিল, দেশীয় প্রযুক্তিতে তারই উন্নত সংস্করণ হল ব্রাহ্মস। শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন থেকে হেলিকপ্টার, অ্যাটাক কপ্টার তার ত্রিসীমানায় আসা শত্রুপক্ষের যে কোনও সামরিক অস্ত্রকে নিমেষে ধ্বংস করতে পারে ব্রাহ্মস। ভূমি, আকাশ, জল তিন জায়গায় থেকেই ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর বেগ এতটাই বেশি যে একবার টার্গেটের দিকে ধাওয়া করলে মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্রই আছে ভারতের হাতে। শক্তিতে ও প্রযুক্তিতে যা টেক্কা দিয়েছে আমেরিকা ও চিনের ক্রুজ মিসাইলকেও। আরও এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নাগ মিসাইল ক্যারিয়ার। বিশাল মরুপ্রান্ত দিয়ে যদি হানা দেয় শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক, তা হলে নিমেষে রুখে দেবে নাগ। অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) নাগকে ভূমি এবং আকাশ, দুই জায়গা থেকেই ছোড়া যায়। প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্কই মূলত এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য।