
শেষ আপডেট: 25 June 2022 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ চলছে, বিশ্বযুদ্ধ। রাস্তায় গেস্টাপো বাহিনীর সন্ত্রাস। মাথার ওপর আকাশে চক্কর মারছে যুদ্ধ বিমান। আর চোরাকুঠুরিতে বসে নিজের জীবন একটি ডায়েরিতে লিখে চলেছেন এক বছর পনেরোর মেয়ে। পাতার পর পাতায় শুধু যুদ্ধের টাটকা স্মৃতি। ভেবেছিলেন যেদিন মুক্ত হবেন, সেদিন এই ডায়েরি থেকে নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করবেন। কিন্তু সেটা আর হল না। ধরা পড়ে যান তিনি। যেতে হয় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে। সেখানেই বন্দি অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। চিনতে পারছেন কার কথা বলা হচ্ছে! হ্যাঁ, আনা ফ্রাঙ্ক (Anne Frank)।
জার্মান নাৎসি বাহিনীর হাতে এক সময় প্রাণ হারিয়েছেন বহু ইহুদি। তেমনই হলোকাস্টের শিকার (Holocaust victim) হয়েছিলেন আনা। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই। ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বিশ্বাসঘাতকার শিকার হতে হয়, শেষে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে প্রাণ হারান ওই ফুটফুটে মেয়েটি।
তবে তাঁর লিখে রেখে যাওয়া ডায়েরি আজ জগত বিখ্যাত। তিনি শুধু নিজের কাহিনী লেখেননি। লিখেছিলেন সেই সময়কার হাজার হাজার ইহুদি মেয়ের গল্প। পরবর্তী সময়ে তাঁর লেখা ওই দিনলিপি 'ডায়েরি অফ অ্যা ইয়ং গার্ল' (The Diary of a Young Girl) নামে প্রকাশ পায়।
বেঁচে থাকলে আনার বয়স হত ৯৯। চলতি মাসের ১২ তারিখ ছিল তাঁর জন্মদিন। আজ, ২৫ জুন গুগল ডুডল (google Doodle) সেই আনা ফ্রাঙ্ক ও তাঁর ডায়েরির ৭৫ তম বর্ষ উদযাপন করছে। সকাল থেকেই গুগলের পেজ খুললে ভেসে উঠছে এক স্লাইড শো। যেখানে আনার ডায়েরির থেকে নেওয়া কয়েকটা পেজের সংক্ষিপ্তসার দেওয়া আছে।
তাঁর ডায়েরি যদি পাওয়া না যেত হয়তো কেউ চিনতই না এই ইহুদি মেয়েটিকে। আনার বাবার ওত্তো ফ্রাঙ্কের এক বন্ধু খুঁজে পেয়েছিলেন সেই ডায়েরি। তারপর তা ছাপার হরফে বিশ্ববাসীর সামনে আসে। জানতে পারেন একটি মেয়ে ও তাঁর গল্প।
বলা চলে সেই হয় ইহুদিদের ওপর নাৎসি বাহিনীর অত্যাচারের খণ্ডচিত্র ইতিহাসের দলিল হিসেবে গবেষকদের সামনে এনেছিল এই ডায়েরি। প্রতি পাতা থেকে জানা গিয়েছিল এমন সব তথ্য যা এর আগে বিশ্ববাসীর কোনও ধারণাই ছিল না। সেই আনা ফ্রাঙ্ককে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে আজ গুগল।