
শেষ আপডেট: 3 June 2020 18:30
আট দিনেও ক্ষোভের আগুন নেভেনি। কাঁদানে গ্যাসে জ্বলেছে চোখ, পুলিশের লাঠিতে ফেটেছে মাথা, রাবার-বুলেট জখম করেছে, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা পিছু হটেননি। খিদে, ঘুম, ক্নান্তি ভুলে রাস্তায় রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান উঠেছে ‘আমরা দম নিতে পারছি না’ । ওয়াশিংটনের রাস্তায় গতকাল রাতেও পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয় বিক্ষোভকারীদের। ন্যাশনাল গার্ডের সামনে মানবশৃঙ্খল করতেও দেখা যায় অনেককে। “দিনের পর দিন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন তাঁরা। বর্ণবৈষম্যের হিংসা রুখতে ক্লান্তি ভুলেছেন ওই মানুষগুলো। তাঁদের নিজের বাড়িতেই ডেকে এনেছি,” বলেছেন ৪৪ বছরের রাহুল।
কম করেও ৭৫ জন রয়েছেন আমার বাড়িতে, বলেছেন রাহুল। ছোট বাড়িতে অবশ্য সকলকে পর্যাপ্ত আরাম দিতে পারেননি, তবে আতিথেয়তায় বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তিনি। বলেছেন, সোফাতে, মাটিতে এবং বাথটবে শুয়েও রাত কাটিয়েছেন অনেকে। পরিবারে মা, স্ত্রী ও মেয়ে রয়েছেন রাহুলের। জানিয়েছেন, মেয়ের ঘরও খুলে দিয়েছেন তিনি। সেখানে শান্তিতে ঘুমিয়েছেন অনেক বিক্ষোভকারীই।
ওয়াশিংটনে বাস গত ১৭ বছর ধরে। আলভারেজ দুবে ট্রেডিংয়ের মালিক রাহুল দুবে এখন আমেরিকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির শিরোনামে। তাঁকে ‘রক্ষাকর্তা’ বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে। “গতকাল রাতে আমাদের বাঁচিয়েছিলেন রাহুল। তাঁর বাড়িতে শান্তি খুঁজে পেয়েছিলাম আমরা। এই অহিংস প্রতিবাদের তিনিও এক শরিক। তাঁর মতো মানুষ হয় না,” বলেছেন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর স্লোগান তোলা এক বিক্ষোভকারী।
কোনও কিছুই পরিকল্পনা করে হয়নি, বলেছেন রাহুল। তিনি দেখেন ঝড়ের মতো একদল মানুষ ছুটে আসছে তাঁর বাড়ির দিকেই। কেউ পুলিশের রাবার-বুলেটে আহত, কেউ পরিশ্রান্ত, ধুঁকছেন। তাই আর দ্বিতীয়বার না ভেবে বাড়ির দরজা খুলে দেন তিনি। “ওই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটবে না, তাঁদের হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়েছে, কিন্তু কিছুক্ষণের শান্তি তাঁদের দিতে পারব, ” বলেছেন রাহুল দুবে।