দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনাভাইরাসের অতিমহামারী এবং লকডাউন। এই দুইয়ের ধাক্কায় পুরোপুরি বেসামাল হয়ে পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আইএমএফের মতো সংস্থা একবাক্যে বলছে, অতিমহামারীর পরেই আসছে আর্থিক মন্দা। তাতে বহু লোকের কাজ হারানোর সম্ভাবনা। এর ফলে বাজারে চাহিদা কমবে। মন্দার ছায়া দীর্ঘতর হবে তাতে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কী অবস্থা হবে? এ ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী করেছে ফিচ রেটিং। তাদের মতে, ২০২০-২১ সালে ভারতের অর্থনীতির বিকাশ হবে মাত্র ০.০৮ শতাংশ হারে।
এর আগের আর্থিক বছরে ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির বিকাশ হয়েছে ৪.৯ শতাংশ হারে। কিন্তু চলতি আর্থিক বছরে বিকাশের হার ০.০৮ শতাংশের ওপরে ওঠা মুশকিল। আশার কথা হল, ২০২১-২২ এর আর্থিক বছরে বিকাশের হার ফের বাড়বে। তখন ভারতের অর্থনীতি ৬.৭ শতাংশ হারে বিকশিত হবে বলে ফিচ রেটিং-এর ধারণা।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দু’টি ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতির বিকাশ হবে ঋণাত্মক। এপ্রিল থেকে জুন মাসের ত্রৈমাসিকে বিকাশ হবে মাইনাস ০.০২ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বিকাশ হবে মাইনাস ০.০১ শতাংশ। গত আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বিকাশ হয়েছিল ৪.৪ শতাংশ।
২০২০ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে বিকাশের হার কিছু বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিচ রেটিং-এর মতে তখন জিডিপি বিকশিত হবে ১.৪ শতাংশ হারে। বিকাশের হার কমার কারণ দু’টি। প্রথমত ২০২১ সালে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ০.০৩ শতাংশ। গতবছর বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫.৫ শতাংশ। তাছাড়া চলতি বছরে বিনিয়োগ কমেছে ৩.৫ শতাংশ।
ফিচ রেটিং-এর চিফ ইকনমিস্ট ব্রায়ান কুলটন বলেন, ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বিকাশ কমবে ৩.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আর কখনও জিডিপি এত নীচে নামেনি। এর আগে ২০০৯ সালে মন্দা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের মন্দা তার তুলনায় দ্বিগুণ গভীর। চলতি বছরে বিশ্বে যে সম্পদ উৎপন্ন হবে, তার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৮০০ কোটি ডলার কম। কোনও দেশই এই মন্দার কবল থেকে বাঁচবে না।