প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক ধারণা, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির ডিপার লাইটের তীব্র আলোর ঝলকানিতে চালক মুহূর্তের জন্য মনোসংযোগ হারান, যার ফলেই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

আহতদের আনা হল হাসপাতালে
শেষ আপডেট: 4 October 2025 11:51
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে কালিম্পং জেলার মেল্লি কিরণে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জাতীয় সড়ক ১০-এর ধার ঘেঁষে থাকা পাহাড়ি পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গিয়ে পড়ে একটি গাড়ি। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ মিটার গভীর খাদে গিয়ে পড়ে গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের। গুরুতর আহত হন আরও তিনজন।
স্থানীয় মানুষজনের উদ্যোগে ও প্রশাসনের তৎপরতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মেল্লি সিকিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক ধারণা, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির ডিপার লাইটের তীব্র আলোর ঝলকানিতে চালক মুহূর্তের জন্য মনোসংযোগ হারান, যার ফলেই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য।
মৃতদের পরিচয় জানা গিয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বজোজহাড়ি, ৩ মাইল এলাকার বাসিন্দা কমল সুব্বা (৪৪)। তিনিই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তাঁর মেয়ে সমীরা সুব্বাও (২০) এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে জনুকা দর্জি (৩৫) এবং নিতা গুরুং (৫৮) এর। দুর্ঘটনায় আহতরাও একই এলাকার বাসিন্দা। আহত সুনীতা থাপা (৪০), সান্দ্রিয়া রাই (৮) এবং পাঁচ বছরের সামিউল দর্জি মেল্লি সিকিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় রাতে ওই পথে গাড়ি চালানো বিপজ্জনক। সেখানে আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজ শুরু করতেও দেরি হয়। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গাড়িটি বজোজহাড়ি থেকে গ্যাংটকের দিকে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে মেল্লি কিরণের কাছে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। শান্তির সন্ধ্যা মুহূর্তেই পরিণত হয় বিভীষিকাময় অন্ধকারে। স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এদিকে মেল্লি ও গ্যাংটক এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বজোজহাড়ি এলাকা।