'যোগ্য-অযোগ্য', শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির (SSC Scam) কারণে এই দুই শব্দবন্ধের সঙ্গে এখন যথেষ্ট পরিচিত বঙ্গবাসী (West Bengal)। সম্প্রতি আরও একটি বিষয়ে চাল-কাঁকর আলাদা করা নিয়ে আলোচনা চলছে। তা হল কে বা কারা যোগ্য-অযোগ্য ভোটার (Voter List)।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 26 October 2025 21:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'যোগ্য-অযোগ্য', শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির (SSC Scam) কারণে এই দুই শব্দবন্ধের সঙ্গে এখন যথেষ্ট পরিচিত বঙ্গবাসী (West Bengal)। সম্প্রতি আরও একটি বিষয়ে চাল-কাঁকর আলাদা করা নিয়ে আলোচনা চলছে। তা হল কে বা কারা যোগ্য-অযোগ্য ভোটার (Voter List)। ভোটার তালিকায় কারচুপির ঘটনা যে নতুন তা নয়। কিন্তু প্রায় ২৩ বছর পর যখন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR Date) পথে হাঁটছে কমিশন, তখন স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আবার ওই দুই শব্দবন্ধের প্রহেলিকায় গা ভাসাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যেমনটা ঘটেছিল প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর।
এসএসসি-র শিক্ষক (SSC Job Deprived) নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট তখন এই সংক্রান্ত শুনানির পর ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয়। ফলে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিল। চলতি বছরের গত ১০ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে শেষ হয় এই মামলার শুনানি। কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ওই মামলায় একাধিক জটিলতা ছিল, এখনও আছে। যার মধ্যে অন্যতম হল যোগ্য এবং অযোগ্যদের বাছাইয়ের সমস্যা। কী ভাবে যোগ্য এবং অযোগ্যদের আলাদা করা হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে দীর্ঘ আন্দোলন করেছেন 'যোগ্য'রা।
শুনানির শেষ দিন পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছিল, এই মামলায় আসল তথ্য জানা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে হেতু আসল উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট উদ্ধার করা যায়নি, তাই কোন ওএমআর শিটকে আসল বলে ধরে নেওয়া হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসএসসিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ এবং প্যানেল-বহির্ভূত নিয়োগের তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। কিন্তু ওএমআর শিট কারচুপির তথ্য কমিশনের কাছে নেই।
সিবিআইয়ের বক্তব্য ছিল, এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েই অনেকে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। তাই ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের এই মামলায় হাইকোর্টের রায় বহাল থাকা উচিত। সেই মতোই রায় বহাল রেখেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ।
এখন, ভারতের নির্বাচন কমিশন সোমবার যেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে, তখন থেকেই বঙ্গে কার্যত এসআইআর-এর দামামা বেজে গেছে। কী এই এসআইআর?
প্রতি বছরই নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা সংশোধন হয়। নতুন ভোটার যুক্ত করা, মৃত বা অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া— সবই সেই প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু কমিশনের পর্যবেক্ষণ, এই সংশোধন যথেষ্ট নিবিড় নয়; ফলে অনেক ত্রুটি থেকে যাচ্ছে। তাই এবার সমস্ত ভোটারের নাম নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হবে দু'টি দিকেই—
১. কোনও বৈধ নাগরিক যাতে ভোটাধিকার হারান না।
২. কোনও অবৈধ বা অযোগ্য ব্যক্তি যাতে ভোটার তালিকায় থেকে না যান।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপের আড়ালে কাজ করছে বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি। তাঁদের দাবি, বিজেপি মনে করে বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে ভারতে আসা প্রায় এক কোটি অনুপ্রবেশকারী নাগরিক দেশের ভোটার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। সেই নাম মুছে ফেলতেই এবার এসআইআর-এর মাধ্যমে তালিকা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, কমিশনের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ— ভোটার তালিকার নিখুঁত নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাই একমাত্র লক্ষ্য। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করছেন এত তাড়াহুড়ো করে এই ঝারাই-বাছাইতেও গলদ থাকতে পারে।
তৃণমূলের কুণাল ঘোষও বলেছেন, ‘বিজেপি দিশাহারা। এবার তারা ভোটার তালিকাতেও কারচুপি করবে। লোককে দেখাচ্ছে মুসলিমদের টার্গেট করছে। কিন্তু হিন্দুরাও এবার বিপদে পড়তে চলেছে।’ তাঁর কথায়, বিজেপি শুধু মুসলিমদের কথা বলছে, কিন্তু অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর প্রভাব পড়তে চলেছে। না হলে এখন থেকে কেন বারবার বলতে হচ্ছে যে এসআইআর-এ বাদ গেলে সিএএ দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে?
মোট কথা, সব ঠিক থাকলে নভেম্বরের শুরুতেই বিশেষ নিবিড় সংশোধন হতে চলেছে বাংলায়। সূত্রের খবর ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে যে কোনও দিন থেকে শুরু হয়ে যাবে এসআইআর-এর কাজ। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। তবে নির্বাচন কমিশনের কাছেও এই পর্ব একপ্রকার চ্যালেঞ্জের মতোই। যতটা চ্যালেঞ্জ ছিল চাকরি বাতিলে যোগ্য-অযোগ্য বাছাইয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের। বাকিটা বলবে ভবিষ্যৎই।