
শেষ আপডেট: 10 November 2023 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতির কালো টাকার হদিশ পেতে এবার ধৃত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়ির পরিচারক রামস্বরূপ শর্মাকে জেরা করা শুরু করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে ইডির নির্দেশ মেনে সিজিওতে আসেন রামস্বরূপ। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর সল্টলেকের বাড়ি থেকে মন্ত্রীকে গ্রেফতারের আগে রামস্বরূপকে একদফা জেরা করেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সময় রামস্বরূপের দেওয়া বয়ান নতুন করে খতিয়ে দেখতেই তাঁকে ফের তলব বলে মনে করা হচ্ছে।
ইডি সূত্রের দাবি, রেশন দুর্নীতির রহস্য ফাঁসে বড় ভূমিকা নিতে পারেন এই রামস্বরূপ। কারণ, নিজের মেয়ে, স্ত্রীর পাশাপাশি বাড়ির পরিচারক রামস্বরূপের মা ও স্ত্রীকেও জ্যোতিপ্রিয় কোম্পানির ডিরেক্টর বানিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। মনে করা হচ্ছে, রেশনের কালো টাকাকে ঘুরপথে সাদা করতেই এভাবে বাড়ির পরিচারকের মা ও স্ত্রীকে কোম্পানির ডিরেক্টর বানিয়ে দিয়েছিলেন মন্ত্রী।
আদালতের নির্দেশ মেনে এদিন সকালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। তার কিছু পরেই সিজিওতে ঢুকতে দেখা যায় মন্ত্রীর পরিচারককে। যদিও জেরার প্রসঙ্গ এড়িয়ে রামস্বরূপের দাবি, “স্যারের (মন্ত্রীর) দুপুরের খাবার দিতে এসেছি।”
বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতারের পর আদালতে পেশ করা মামলাপত্রেই ইডি জানিয়েছিল, তিনটি ভুয়ো কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন মন্ত্রীর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিক ও স্ত্রী মনিদীপা মল্লিক। রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজের তথ্য অনুযায়ী প্রিয়দর্শিনী পরে ডিরেক্টর পদ থেকে সরে যান। অধিকর্তার পদ ছাড়েন মনিদীপা। তাঁদের পরিবর্তে ওই তিন কোম্পানিতে ডিরেক্টর করা হয়েছিল বাড়ির কাজের লোক রামস্বরূপ শর্মাকে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জ্যোতিপ্রিয় তথা বালু মল্লিকের আমহার্স্ট স্ট্রিট চত্বরে পুরনো বাড়ি ছিল। কাছেই কলেজ স্ট্রিটে সেলুন চালাতেন রামস্বরূপ। বালু সেখানে যেতেন চুল কাটাতে। সেই থেকে রামস্বরূপের সঙ্গে পরিচয়। মাঝে মধ্যেই রামকে দিয়ে বাজার দোকান করাতেন বালু। রামের বাড়ি ছিল বিহারে। বালুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এতই বেড়ে যায় যে নেতার বাড়িতে এরপর পরিচারক হিসাবে কাজে যোগ দেন রামস্বরূপ। আর বালু রাজ্যে মন্ত্রী হতেই কৃষি দফতরে তাঁর গ্রপ ডি-র চাকরিও জুটে যায়।
রামস্বরূপ এখন থাকেন কেষ্টপুরের প্রফুল্লকাননে। সেখানে তাঁর একটা ফ্ল্যাট রয়েছে। ইডিকে তিনি জানিয়েছেন, মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথাতেই তিনি তিনটি কোম্পানির ডিরেক্টর হয়েছিল। ওই কোম্পানির কী কাজ, কী ব্যবসা ছিল, কিছুই তিনি জানেন না। ইডির জিজ্ঞাসাবাদে রামস্বরূপ জানিয়েছেন, মন্ত্রীর কাছে কিছু লোকজন আসতেন। তাঁরাই তাঁকে দিয়ে কিছু কাগজপত্র সই করিয়েছিলেন। পাসপোর্ট সাইজের ফটোও চেয়েছিলেন। জ্যোতিপ্রিয়র কথাতেই তিনি সই সাবুদ করে দিয়েছেন।
ইডিকে রাম স্বরূপ এও জানিয়েছেন, তিনি ইংরেজি লিখতে পড়তে বিশেষ পারেন না। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েছেন। তাই কী কাগজে সই করানো হয়েছিল তা বলতে পারবেন না। সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত বিষয়ে আরও খুঁটিনাটি জানতে এদিন বালুর পরিচারককে জেরা করছেন তদন্তকারীরা।