
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পাশে দিলী ঘোষ
শেষ আপডেট: 4 May 2024 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের মধ্যেই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন রাজভবনের অস্থায়ী এক মহিলা কর্মী। ইতিমধ্যে সেই অভিযোগের তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। আর এই গোটা ঘটনাই 'স্ক্রিপ্টেট' বলে দাবি করলেন দিলীপ ঘোষ।
শনিবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে যান দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলকে একহাত নেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগ ‘স্ক্রিপ্টেড’। গোটা ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।
লোকসভা ভোটের মুখে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। শুক্রবার রায়নায় নির্বাচনী সভা থেকে বোসকে নিশানা করেন মমতা। তবে রাজ্যপালের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেন দিলীপ। তাঁর মতে, “পুরো স্ক্রিপ্ট তৈরি ছিল। সবাই জানে এর পিছনে কে আছে। তৃণমূল মহিলাদের সম্মান করে না। তাঁদের ব্যবহার করে। এখানেও একজন মহিলাকে ব্যবহার করা হয়েছে। সম্মানীয় মানুষকে কীভাবে অপমান করতে হয়, তৃণমূল তা দেখিয়ে দিয়েছে।”
শুধু তাই নয়, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করায় পুলিশের সমালোচনায়ও সরব হন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। বলেন, “পুলিশ তো তদন্ত কমিটি করবেই। আমার বিরুদ্ধে আপনি একটা অভিযোগ করুন তদন্ত দল তৈরি হয়ে যাবে। বাকি খুন,ধর্ষণে সেখানে কতজন গ্রেফতার হয়েছে?” এদিন ভোট চলাকালীন আনন্দপুর ও ডায়মন্ড হারবার থানার ওসি বদল প্রসঙ্গও দিলীপের বক্তব্যে উঠে আসে। তাঁর কথায়, “বর্ধমান জেলায় এরকম দুজন আছেন। তাঁদেরকে বেশ কিছু বছর চাকরি করতে হবে। দিদির আঁচলের তলায় বেশি দিন বসে থাকতে পারবেন না।”
রাজভবনে দু'মাসে, দু'বার তাঁর শ্লীলতাহানি হয়েছে বলে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজভবনেরই ওই মহিলা কর্মী। বৃহস্পতিবার রাতে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বাংলার রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। নিন্দায় সরব হয় তৃণমূল। যদিও ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ' বলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন সি ভি আনন্দ বোস।
ইতিমধ্যেই রাজভবনের মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে। লালবাজার সূত্রের খবর, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্পেশাল এনকোয়ারি টিম বা সেট গঠন করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশেষ অনুসন্ধান দলে রয়েছেন মোট ৮ জন সদস্য।