ঠিকই ছিলেন তিনি মোটের ওপর। ১০ মে, শনিবার তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ৯ মে রাত থেকে খিঁচুনি ও বমি শুরু হয়। ডায়ালিসিস দেওয়ার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন কেশপুরের নাসরিনের মৃত্যু হয় এসএসকেএমে।

ছবিটি প্রতীকি
শেষ আপডেট: 12 May 2025 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ডায়ালিসিস চলাকালীন মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হল নাসরিন খাতুনের। জাল স্যালাইনকাণ্ডের শিকার এই প্রসূতি ভর্তি ছিলেন কলকাতার এসএসকেএমে। শনিবার তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। দেখা হত সদ্যোজাতর সঙ্গে কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবিবার রাতে মৃত্যু হয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলছে পরিবার।
বছরের শুরুতেই রাজ্যে হইচই পড়ে যায় জাল স্যালাইন কাণ্ড নিয়ে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রসূতিদের রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন পাঁচ জন। তাঁদের মধ্যে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয় একজনের। নাসরিন-সহ তিনজনকে তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় এসএসকেএমে। মাম্পি সিংহ ও মিনারা বিবি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নাসরিনের কিডনি বিকল হয়ে যায়। ডায়ালিসিস চলছিল এসএসকেএমে।
ঠিকই ছিলেন তিনি মোটের ওপর। ১০ মে, শনিবার তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ৯ মে রাত থেকে খিঁচুনি ও বমি শুরু হয়। ডায়ালিসিস দেওয়ার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন কেশপুরের নাসরিনের মৃত্যু হয় এসএসকেএমে। পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের দাবি, 'দিন দশেক আগেই জেনারেল বেডে দিয়েছিল, বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু রবিবার রাতে ডাক্তারবাবুরা জানালেন ও আর নেই।'
পরিবারের এখন প্রশ্ন, যাঁদের জন্য ফুটফুটে সন্তান রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তরুণী, তাঁরা বহাল তবিয়তে কাজ করছেন। তাঁদের পদে ফেরাল কেন সরকার?
এদিকে নাসরিনের কন্যা সন্তানটিকে দেখার আশ্বাসও নাকি বিডিও ও স্বাস্থ্য বিভাগ কোনও পদক্ষেপ করেনি। পাশাপাশি নাসরিনের অসুস্থ শ্বশুর মেদিনীপুর মেডিক্যালে চিকিৎসা করাতে গেলে তাঁকে পরিষেবা দেওয়া তো দূর, দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। এই সব নিয়ে ক্ষুব্ধ পরিবার। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে।