বয়স মাত্র সাত। হলে কী হবে! ডোরেমন বা ছোটা ভীম নয়, এমনকী বিরাট কোহলি বা লিওনেল মেসিও নয়। নিদেনপক্ষে শাহরুখ খান বা সলমন খানও নয়। সে যাঁর তুমুল ভক্ত, তাঁর নাম রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতিকেই সব চেয়ে পছন্দের মানুষ বলে মনে করে কেরালার নন্দন।
আর এমন ফ্যান যে রাহুল গান্ধীকে এক বার সামনে থেকে দেখতে চাইবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। ছোটোবেলা থেকেই তার খুব ইচ্ছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার। আর তাই রাহুল যখন কেরালার কান্নুর জেলায় সভা করতে এলেন, তখনই ছোট্ট নন্দন বাবার কাছে বায়না করে, তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বাবাও রাজি হয়ে যান, ছেলের পছন্দের মানুষের সঙ্গে তাকে দেখা করাতে নিয়ে যেতে।
গত বুধবার কান্নুরের একটি সভাগৃহে সকাল ন'টা নাগাদ রাহুলের অনুষ্ঠান শুরু হয়। তার অনেক আগেই অবশ্য, ভোর পাঁচটা নাগাদ বাবার হাত ধরে সেখানে পৌঁছে যায় নন্দন। ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে হাজির হন বাবা-মা দু'জনেই। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি স্বাভাবিক ভাবেই। তাতেও অবশ্য হাল ছাড়েননি তাঁরা। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু শেষমেশ ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয় নন্দনকে।
এই কথাই ফেসবুকে লিখে পোস্ট করেছিলেন নন্দনের বাবা। আর সেই সোশ্যাল মিডিয়া মারফতই কেরলের এক কংগ্রেস নেতার মাধ্যমে নন্দনের খবর পৌঁছে যায় খোদ কংগ্রেস সভাপতির কাছে।
পরের দিন, মানে বৃহস্পতিবার সকালেই নন্দনের মায়ের কাছে একটি ফোন যায়। ফোন ধরতেই ওপার থেকে শোনা যায়, 'আমি রাহুল গান্ধী বলছি। আপনার ছেলের সাথে কথা বলতে পারি?'
আনন্দের থেকে বিস্মিতই বেশি হন নন্দনের মা। তবে তার পরে ছেলেকে ফোন দিতেও দেরি করেননি। নন্দন তো বিশ্বাসই করতে পারছে না, তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছে রাহুল গান্ধী! তার স্বপ্নের মানুষ! রাহুলের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা পূরণ হয় নন্দনের।
নন্দনের বাবার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোর পাঁচটা থেকে প্রেক্ষাগৃহের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। নন্দনের পরনে থাকা টি-শার্টে রাহুলের ছবিও ছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে একাধিক বার কথা বলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে নন্দনরা। কিন্তু হয়ে ওঠেনি।

বাধ্য হয়ে সে দিন খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল নন্দনকে। গোটা ঘটনাটিই আবার নিজের টুইটার পোস্ট করেছেন কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান দিব্যা স্পন্দনা। সঙ্গে জুড়েছেন রাহুলের পোস্ট। যিনি আবার ঘটনাটির অনুবাদ করে নিজে পোস্ট করেছেন।