দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার জানা গেল, তিনি সেরে উঠেছেন। সম্ভবত এদিনই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত সপ্তাহে তাঁকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লির মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন কোভিড নেগেটিভ হয়েছেন। শুক্রবারই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
গত ১৭ জুন মন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁর জ্বর হয়েছিল। রক্তে অক্সিজেন লেভেলও নেমে গিয়েছিল আচমকা। তাঁকে রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে কোভিড টেস্টে তাঁর নেগেটিভ এসেছিল। দ্বিতীয়বার টেস্ট করে পজিটিভ আসে।
পরে তাঁকে দক্ষিণ দিল্লির ম্যাক্স হসপিটালে স্থানান্তরিত করা হয়। ক্রমে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। প্লাজমা থেরাপির পরে তাঁর অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন বড় চিকিৎসক মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার ওপরে নজর রাখছিলেন।
প্লাজমা থেরাপিতে যে ব্যক্তি কোনও ভাইরাসঘটিত রোগ থেকে সেরে উঠেছেন, তাঁর প্লাজমা সেই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ধরে নেওয়া হয়, যিনি সেরে উঠেছেন, তাঁর প্লাজমায় সেই ভাইরাসকে মোকাবিলা করার মতো অ্যান্টিবডি আছে। সেই অ্যান্টিবডি আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে পারে। তবে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার এখনও প্লাজমা থেরাপিকে স্বীকৃতি দেয়নি। সরকারের মতে, করোনার মোকাবিলায় প্লাজমা থেরাপি কাজে লাগবে কিনা তা এখনও প্রমাণিত নয়।
এর আগে আপের বিধায়ক অতিশী করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন। জুন মাসের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল করোনা নেগেটিভ হন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, তাঁর সরকার রাজধানীর ২০০ রোগীর ওপরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করতে অনুমতি দিয়েছে। তাঁর মতে, এই থেরাপির ফলে মৃত্যুর হার কমতে পারে।
করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় মুম্বই ও তামিলনাড়ুকে পিছনে ফেলে দিয়েছে দিল্লি। শহরে হাসপাতালের বেডের অভাব দেখা দিয়েছে।