দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে আত্মহত্যা করেছেন বছর ৩২'এর এক বিমানসেবিকা। যদিও পরিবারের দাবি, তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম অ্যানিসিয়া বাত্রা। শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দিল্লির পঞ্চশীল পার্কের কাছে নিজের বাড়ির ছাদ থেকেই ঝাঁপ দেন ওই বিমানসেবিকা।
অ্যানিসিয়ার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। মেয়ের মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে নির্যাতনের শিকার হন তাঁর মেয়ে। অ্যানিসিয়ার যদি কোনও ক্ষতি হয় তাহলে সে জন্য তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই দায়ী থাকবেন।
অ্যানিসিয়ার ভাই করণ জানিয়েছেন, আত্মহত্যা করার কিছুক্ষণ আগেই তাঁদের মেসেজ করেছিলেন অ্যানিসিয়া। বলেছিলেন তাঁর স্বামী তাঁকে ঘরে বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর জীবনের এই অবস্থার জন্য তাঁর স্বামীই দায়ী। সে যেন কোনওভাবেই নিস্তার না পায়। অ্যানিসিয়ার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বারবার অ্যানিসিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের গ্রেফতার করতে বলা হলেও পুলিশ কোনও সাহয্যই করেনি।
এদিকে অ্যানিসিয়ার স্বামী মায়াঙ্ক সিংভি পুলিশকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় অ্যানিসিয়া তাঁকে একটি মেসেজ পাঠান। সেখানে লেখা ছিল জীবনের চরমতম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। এরপরেই ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান মায়াঙ্ক। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
অ্যানিসিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর অত্যাচার চালাত মায়াঙ্ক। মদ্যপ অবস্থায় মারধরের পাশাপাশি টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়াও চলত। এমনকী জুন মাসে অ্যানিসিয়ার মা-বাবা মেয়ের বাড়িতে গেলে মায়াঙ্কের মারধরের শিকার হন তাঁরাও। এই বিষয়ে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন অ্যানিসিয়ার বাবা।
পুলিশ জানিয়েছে, মায়াঙ্কের বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে। অ্যানিসিয়ার আত্মহত্যার ব্যাপারে মায়াঙ্ক এবং তাঁর বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। কিন্তু অ্যানিসিয়ার ভাই করণ বাত্রার অভিযোগ, বাড়ি সিল করার পরেও ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন মায়াঙ্ক। এবং সব প্রমাণও লোপাট করে দিয়েছেন তিনি।
করণ আরও জানিয়েছেন, তাঁর বোনের ময়নাতদন্ত নিয়েও তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। রবিবার হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাঁদের জানায় ময়নাতদন্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে অন্য কথা। করণ বারবারই অভিযোগ করেছেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরেও তারা কিছুই করছেন না। এমনকী এখনও পর্যন্ত অ্যানিসিয়ার স্বামী বা আর কাউকেই গ্রেফতারও করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।