দ্য ওয়াল ব্যুরো : গোয়ার রাজধানী পাঞ্জিমে বাস করেন ৭৩ বছর বয়সী ফতিমা আলভারেজ। বয়স হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বাধীন জীবন যাপন করেন। কারও সাহায্য নেন না। কিন্তু এই লকডাউনের ফলে অকেজো হয়ে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, লকডাউনের জন্য তাঁর বাড়িতে আগের মতো রুটি, ডিম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না।
ফতিমা আলভারেজের মতো দুর্দশা হয়েছে গোয়ার আরও অনেকের। গত রবিবার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত ঘোষণা করেন, "খাবার সরবরাহের জন্য আমরা বাস পাঠাব। কেউ খাবার না পেলে বিশেষ ফুড হেল্পলাইনে ফোন করতে পারবেন।" রাজ্যের নানা জায়গায় ফুড হেল্পলাইনের নম্বর দিয়ে পোস্টারও সেঁটে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, তার মধ্যে একটি নম্বরের অস্তিত্বই নেই। অপর নম্বরে অবশ্য ফোন করলে উত্তর মিলছে। ফোনে বলা হচ্ছে, কেউ যদি খাবারের অভাবে পড়েন, তাঁর বাড়িতে রেশন অথবা রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। গোয়া সরকারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মোট ১৫০ টি দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলিতে খাবার হোম ডেলিভারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত পাঁচটি মুদির দোকানের মধ্যে দু'টি জানিয়েছে, তাদের স্টক কমে এসেছে। তারা আর খাবার সরবরাহ করছে না। ধারবান্দোরা অঞ্চলে দিওয়ানি সুপার স্টোর জানিয়েছে, তাদের ভাঁড়ার প্রায় শেষ। অন্যদিকে মর্মুগাওয়ের জাজ স্টোর্স জানিয়েছে, তাদের দোকানে অল্প পরিমাণে চিনি, বিস্কুট, চাল ও পিঁয়াজ পড়ে আছে। কোনও শাকসবজি বা ফলমূল নেই। কুইপেম অঞ্চলে একটি রেশন দোকান জানিয়েছে, তাদের স্টকে খাবার আছে ঠিকই কিন্তু তারা হোম ডেলিভারি দিচ্ছে না।
খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। সান্তা ক্রুজ অঞ্চল থেকে আর্তুরো ডিসুজা জানিয়েছেন, "আমি ডায়াবেটিসের রোগী। আমার হার্টেরও সমস্যা রয়েছে। আমার ভাল মাস্ক দরকার ছিল। আমি এখন ২৫ টাকা দামের একটা মাস্ক পরে আছি। এর চেয়ে ভাল মাস্ক পাচ্ছি না।"
এই সমস্যার জন্য গোয়ার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে দোষ দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী সব দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে জনমতের চাপে নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নেন। মানুষ যাতে পথে না নামে সেজন্য তিনি আধা সেনা মোতায়েন করেন। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মানুষের কাছে যাতে যথাসময়ে খাবার পৌঁছে যায়, সেজন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন।