দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় নিভারের এখন শক্তিক্ষয় হয়েছে। তামিললাড়ু, পুদুচেরির উপকূল ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে। তবে দাপট কমার আগেই কার্যত লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে একটা গোটা রাজ্যকে। প্রাণ গেছে পাঁচ জনের। এই সংখ্যা বাড়তেও পাড়ে। উপড়ে পড়েছে শতাধিক গাছ। বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পড়েছে। জলমগ্ন তামিলনাড়ু, পুদুচেরির একাধিক এলাকা।
স্থলভাগে ল্যান্ডফলের সময়েই শক্তি কমে যায় নিভারের। মধ্যরাতে আছড়ে পড়ার পরেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বদলে যায়। ১৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থেকে গতিবেগ কমে ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটারে পৌঁছয়। এখন ঝড়ের বেগ আরও কমে ৮৫-৯৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

মৌসম ভবন জানাচ্ছে, ঝড়ের শক্তি কমলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি থামার নাম নেই চেন্নাইতে। আজ বৃষ্টিরতেজ কমেছে কিছুটা তবে আগামীকালও বৃষ্টি হবে বলেই জানিয়েছে মৌসম ভবন। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণীঝড় ঘনীভূত হওয়ার সময় থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল চেন্নাই, পুদুচেরিতে। নিভারের দাপটে গতকাল অতি ভারী বৃষ্টি হয় চেন্নাই, পুদুচেরি, কাড্ডালোর-সহ বিভিন্ন এলাকায়। নিভারের প্রভাবে বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পুদুচেরিতে ৩০০ মিলিমিটার, কাড্ডালোরে ২৭০ মিলিমিটার, চেন্নাইয়ে ১১৩ মিলিমিটার এবং কারাইকলে ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মুদিচুর ও উরাপাক্কামের বেশিরভাগ এলাকাই জলমগ্ন।
https://twitter.com/Indiametdept/status/1332158817551806465

পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়নস্বামী বলেছেন, রাস্তাঘাটে গাছ উপড়ে পড়ে রয়েছে। বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করছে রাজ্য সরকার। বিপর্যস্ত এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

পুদুচেরি, চেন্নাইতে ট্রেন পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তামিলনাড়ুর ১৩টি জেলায় স্কুল, কলেজ, অফিস সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার লোকজনকে এখনও ঘরবন্দি থাকারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় নেমে পড়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের ২০টি টিম এবং রাজ্যের উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা। রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ চলছে। নিচু এলাকাগুলি থেকে আগেই মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন জলমগ্ন এলাকাগুলি থেকে উদ্ধারের কাজ চলছে।
চাষের জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। ৮২০ হেক্টর ধানের জমি ছাড়খাড় হয়ে গেছে। ২০০ হেক্টর সবজি, ১৭০ হেক্টর আখের জমি, ৫৫ হেক্টরেরও বেশি কলা বাগান লণ্ডভণ্ড। অনেক টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে।