
শেষ আপডেট: 11 September 2023 07:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে 'দিল্লি কা লাড্ডু'.., কিন্তু তার স্বাদ যে এত তিতকুটে হবে তা কি আর আগে বুঝেছিলেন যুবক!
ম্যাট্রিমনি সাইটে আলাপ। সুন্দরী তরুণীর প্রেমে পড়তে সময় লাগেনি আইটি সেক্টরের ঝকঝকে যুবকের। বিয়ের কথা প্রায় পাকাই হয়ে গিয়েছিল। সুন্দরীর সব কথা অক্ষরে অক্ষরে মানতে শুরু করেছিলেন আমদাবাদের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কুলদীপ পটেল। তারই ফল হল মারাত্মক।
শুরুটা হয়েছিল জুলাই মাসে। কুলদীপ জানিয়েছেন, অদিতি নামে এক তরুণীর সঙ্গে ম্যাট্রিমনি সাইটে আলাপ হয়েছিল। দুজনে কথাবার্তা বলা শুরু করেছিলেন। কুলদীপকে বিয়ে করবেন এমন কথাও নাকি দিয়েছিলেন অদিতি। কথায় কথায় কুলদীপের সম্পত্তির বহর কতটা তা জেনে নিয়েছিলেন। এরপরেই অদিতি জানান যে তিনি ব্যবসায়ী। ব্রিটেনে তাঁর বড় ব্যবসা আছে। বিনিয়োগ নিয়ে নাকি তাঁর অগাধ জ্ঞান। কুলদীপ জানিয়েছেন, ক্রিপটোকারেন্সিতে বিনিয়োগের (cryptocurrency Scam) পদ্ধতি অদিতিই বলেন তাঁকে। তরুণীর কথামতোই প্রথমে এক লাখ টাকা ক্রিপটোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেন কুলদীপ। মাত্র কিছুদিনেই ভাল লাভ করেন তিনি। তাতেই লোভে পড়ে যান যুবক। লক্ষ লক্ষ টাকা ক্রিপটোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করা শুরু করেন। ক্রিপটোকারেন্সির নামে ভুয়ো প্রতারণা চক্রের জালে জড়িয়ে পড়েন।
২০ জুলাই থেকে ৩১ অগস্ট অবধি অদিতির কথামতোই ক্রিপটোকারেন্সিতে (cryptocurrency Scam) নিজের বিপুল সম্পত্তি বিনিয়োগ করেছিলেন কুলদীপ। সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে তিনি যখন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে আড়াই লাখ টাকা তুলতে যান, তখন দেখেন যে অ্যাকাউন্ট পুরো ফাঁকা। কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে জানতে পারেন প্রায় ১ কোটি টাকা তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে। এরপর অদিতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখেন তাঁর ফোন বন্ধ। ওই নম্বরটার অস্তিত্বই নেই। তখন বোঝেন যে মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন তিনি।
কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিশেষ শাখা ক্রিপ্টোলজি ব্যবহার করে যে বৈদ্যুতিন মুদ্রা তৈরি হয়, তারই নাম ক্রিপ্টোকারেন্সি। এই মুদ্রা হাতে ছোঁয়ার উপায় নেই, এর অস্তিত্ব শুধুমাত্র ভার্চুয়াল জগতে। ‘ব্লকচেন’ নামে এক প্রযুক্তি দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রণ করে এই অলীক মুদ্রা। প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম বিটকয়েন। কোডিং-এ মারাত্মক দখল থাকলে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করা যেতে পারে। তবে, সাধারণ লোকের পক্ষে সেটা কঠিন। এ ছাড়াও নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ থেকে কেনা যায় এই মুদ্রা। ব্যবহার করা যায় বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ। খুব কম সময় অনেক বেশি টাকা ফেরত পেতে এই বিটকয়েন এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ করেন লোকজন। তবে এর জন্য পারদর্শিতা দরকার হয়। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণার অনেক দিক খুলে গেছে। কাউকে বিশ্বাস করে এইভাবে বিনিয়োগ করা সুরক্ষিত নয়। বিন্দুমাত্র সন্দেহ হলে সাইবার শাখার দ্বারস্থ হতেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।