দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যালেরিয়ার ড্রাগ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্র। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেই আরও জোর দিয়ে বলা হল, ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমন অবস্থায় কোনওভাবেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বিদেশে রফতানি করা যাবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনে ডিজিএফটি (ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেড)-র তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয় বিশেষ আর্থিক এলাকা (এসইজ়েড) বা রফতানিকারক কোনও সংস্থার মাধ্যমেই ম্যালেরিয়ার ড্রাগ বিদেশে রফতানি করা যাবে না। দেশের জরুরি অবস্থার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবশ্য ডিজিএফটি-র তরফে জানানো হয়েছিল শুধুমাত্র মানবিক কারণে বা কোনও আপৎকালীন অবস্থায় এই ড্রাগের রফতানিতে ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনওরকম কারণের জন্যই এই ড্রাগ রফতানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র।
গত ২৫ মার্চ প্রথম সরকারি তরফে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ড্রাগ রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল। তবে কিছু কারণের জন্য রফতানিতে ছাড়ও ছিল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা আরও কড়া হল বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে দেশে আপৎকালীন অবস্থা এলে কোনওভাবেই যেন এই ড্রাগের ঘাটতি না হয়।
সম্প্রতি শের দুই বড় ওষুধ নির্মাতা সংস্থা ইপকা ল্যাবরেটরিজ (Ipca laboratories) ও জাইদাস ক্যাডিলা (Zydus Cadila)-কে ইতিমধ্যেই ১০ কোটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ট্যাবলেট বানানোর বরাত দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটির (NPPA)তরফে জানানো হয়েছে, দেশের বড় বড় ফার্মাসি কোম্পানিগুলির প্রতি মাসে প্রায় ২০ কোটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট তৈরির ক্ষমতা আছে। প্রতিটি ট্যাবলেটের ওজন ২০০ মিলিগ্রাম। জাইদাস সিপলার তরফে জানানো হয়েছে, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন যেহেতু শুধু ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক নয়, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগেও ব্যবহৃত হয় এই ওষুধ, তাই এই ড্রাগ প্রোডাকশনে কোনও কমতি হবে না।
ভারতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন প্রচুর পরিমাণে তৈরি হয়। কোভিড-১৯ সংক্রমণের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ড্রাগ কার্যকরি হতে পারে এমন তথ্য সামনে আসার পর থেকেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। হালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছেন।
ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক রক্ষাকবচ হতে পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণেও, এমন দাবি করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সবুজ সঙ্কেতও মিলেছিল, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছিল, সব সংক্রামিত রোগীর উপরে এই ড্রাগ এখনই প্রয়োগ করা যাবে না। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ড্রাগ বিক্রির উপরে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে ড্রাগস কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট। আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ল্যাবরেটরি টেস্টে কোভিড-১৯ পজিটিভ যে রোগী, শুধুমাত্র তার উপরেই ড্রাগ প্রয়োগ করা যাবে তাও ডাক্তারের পরামর্শ মতো। তাছাড়া স্বাস্থ্যকর্মী যাঁরা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন, অথবা হোম-কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগী যাঁদের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ, এমন রোগীদের চিকিৎসা বা কাছ থেকে দেখাশোনা করছেন যাঁরা, শুধুমাত্র তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা যাবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। এই ড্রাগ তাঁদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলবে।