দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্বর-সর্দি-কাশি তো রয়েছেই, সংক্রমণের সন্দেহ নিয়েও রোগীদের ভিড় বাড়ছে হাসপাতালগুলির বহির্বিভাগে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে সকাল থেকেই বাড়ছে রোগীদের লম্বা লাইন। ওষুধ বা কোনও পরীক্ষা করানোর জন্য টিকিট কাটতে এমনিতেই লাইনে দাঁড়াতে হয় সরকারি হাসপাতালগুলিতে। ইদানীং করোনা আতঙ্কের কারণে শুধু ভিড় নয় অনেক হাসপাতালে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কির ছবিও দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে থমথমে পরিবেশ থাকলেও শুক্রবার থেকেই ছবিটা বদলে গেছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালেরও। এক ধাক্কায় ভিড় বেড়ে গেছে অনেকটাই।
বেলেঘাটা আইডিতে আজ সকাল থেকেই ছিল রোগীদের লম্বা লাইন। একটু বেলা বাড়তেই দেখা যায় প্রায় ৩০০ মিটার লম্বা লাইন হাসপাতাল চত্বর ছাড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে গেছে। একটি লাইনে স্থানীয়রা, অন্য লাইনে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিরা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বচসাও শুরু হয়ে যায় লোকজনের। রীতিমতো ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে চলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে।
করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য ইতিমধ্যেই নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে আইসোলেশন বেড বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সমস্ত হাসপাতালগুলিতে বেশি পরিমাণে মাস্ক, গ্লাভস, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মাস্ক রাখতে হবে। যে কোনও আপৎকালীন অবস্থার জন্য তৈরি থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পরেই তড়িঘড়ি কাজ শুরু হয়। সূত্রের খবর, বেলেঘাটা আইডিতে রোগীদের ভিড় এখন সবচেয়ে বেশি। তাই জরুরি অবস্থার জন্য হাসপাতালের আইসোলেশন বেড ২২ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজারহাটের নতুন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বেডও বাড়ানোর কথা চলছে। চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ওই ৫০০ বেডের নয়া ক্যাম্পাসে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি বেড রাজ্য সরকারের জন্য ধরে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে সংক্রমণ সন্দেহে ভর্তি হওয়া রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ৫০০ বেডই কাজে লাগানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, আরজিকর, এমআর বাঙুর, এনআরএস-সহ সরকারি হাসপাতালগুলি মিলিয়ে করোনা মোকাবিলায় এখনও অবধি ৩৯৬টি আইসোলেশন বেড তৈরি রাখা হয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেই জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, করোনা রোগীর চিকিৎসায় সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কর্তারা। সাধারণ রোগীদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায় সেজন্য সংক্রামিত বা সংক্রমণ সন্দেহে আসা রোগীদের জন্য পৃথক সব রকমের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সব হাসপাতালে পৃথক আইসিইউ-সিসিইউ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে মাস্কের আকালও দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির গোড়ায় নোভেল করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় রাজ্যে তৎপরতা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই বাড়তে শুরু করেছিল মাস্কের চাহিদা। এখন আতঙ্কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই চাহিদাও বাড়ছে।