দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার রাজস্থানের বিদ্রোহী বিধায়কদের নোটিস পাঠিয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকার সি পি যোশি। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই নোটিসের বিরুদ্ধে রাজস্থান হাইকোর্টে গেলেন বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের হয়ে সওয়াল করবেন প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছিলেন। অন্যদিকে স্পিকারের হয়ে সওয়াল করবেন দলের নেতা অভিষেক মনু সিংভি।
বুধবারই বিদ্রোহী বিধায়কদের নোটিস দিয়েছেন রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার। তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না। যেহেতু ওই বিধায়করা এখন জয়পুরে নেই, তাই এসএমএস, হোয়াটস অ্যাপ ও ই-মেল মারফৎ তাঁদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বাড়ির বাইরেও নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার শচীন বিদ্রোহ করেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি টাকা ও উঁচু পদের লোভ দেখিয়ে তাঁর অনুগামী বিধায়কদের দলে টানার চেষ্টা করছে। একটি সূত্রে খবর, বিদ্রোহী বিধায়কদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট দাবি করেছেন, তাঁর সরকারের যথেষ্ট গরিষ্ঠতা আছে। বিজেপিও বলেছে, এই মুহূর্তে বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার শচীনকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শচীনের অনুগামী দুই মন্ত্রীও পদচ্যুত হন। তারপর শচীন টুইট করে বলেন, “যারা সত্যের পথে থাকে তাদের হেনস্থা করা যায় ঠিকই কিন্তু তা বলে সত্যকে পরাজিত করা যায় না।” রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট এদিনই তাঁর মন্ত্রিসভার পুনর্বিন্যাস করবেন বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার শচীন মন্তব্য করেন, গান্ধী পরিবারের কাছে তাঁকে ছোট করার জন্যই তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগের কথা রটানো হয়েছে। এরপর কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, “আমরা মিডিয়ার মারফৎ জেনেছি, শচীন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। যদি তিনি বিজেপিতে না যান, অবিলম্বে হরিয়ানায় বিজেপি সরকারের আতিথ্য নেওয়া বন্ধ করুন। দু’টি হোটেলে বিজেপির নিরাপত্তা বলয় আমাদের বিধায়কদের ঘিরে রেখেছে। সেখান থেকে তাঁদের মুক্ত করুন। বিজেপির সঙ্গে আলোচনাও বন্ধ করুন।” শচীন কংগ্রেসে ফিরতে চাইলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে সুরজেওয়ালা মন্তব্য করেন।
২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন ১০৭ জন। ১৩ জন নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়া সরকারের পক্ষে ছিলেন ছোট দলগুলির আরও পাঁচজন বিধায়ক। কিন্তু মঙ্গলবারের পর মনে হচ্ছে, সরকারের পক্ষে আছেন ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক, সাতজন নির্দল বিধায়ক এবং ছোট দলগুলির পাঁচ বিধায়ক।