
শেষ আপডেট: 5 May 2023 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে কংগ্রেসের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘুরে ফিরে শুধু বজরংবলী অর্থাৎ হনুমানের কথা। আর সেটাই হয়েছে কংগ্রেসের চিন্তার কারণ। দলের অনেকেই তীরে এসে তরী ডোবার আশঙ্কা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর মোকাবিলায় এবার তাই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল হাত শিবির (Congress in Commission to prevent Modi's 'Bajrangbali' storm)। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী হনুমানকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারে লাগাম দিক কমিশন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী ভোটের প্রচারে ধর্ম টেনে আনছেন। তিনি কংগ্রেসকে হিন্দু বিরোধী বলে আসলে ধর্মীয় বিভাজনের পথে হাঁটছেন। কংগ্রেস তাদের নালিশপত্রে বিপুল দস্তাবেজ পেশ করেছে। তাতে তারা কমিশনের ওই সংক্রান্ত বিষয়ে অতীতের নির্দেশিকার কপি জুড়ে দিয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম হল ২০১৭-র একটি গাইডলাইন। যেখানে কমিশন বলেছিল, ধর্মকে কোনওভাবেই ভোটের প্রচারে অস্ত্র করা যাবে না।
আসলে মোদী যে তাদের ইস্তাহারকেই প্রচারের শেষ প্রহরে হাতিয়ার করবেন তা কংগ্রেস নেতাদের ভাবনাতেই ছিল না (Manifesto is a headache)। ইস্তাহারে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল এবং ইসলামপন্থী পিএফআইয়ের মতো সংস্থা যারা ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং ঘৃণা, হিংসা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
কংগ্রেসের ইস্তাহার প্রকাশের দিন বিকালেই প্রচার সভায় বজরং দলের প্রসঙ্গ উহ্য রেখে প্রধানমন্ত্রী বজরংবলীকে টেনে আনেন। বজরংবলী অর্থাৎ হনুমানকে হিন্দুরা গো-মাতার মতোই দেবজ্ঞান করে। আর পুরাণ মতে কর্নাটকই হনুমানের জন্মস্থান। দুয়ে দুয়ে তাই চার করতে কালবিলম্ব করেননি প্রধানমন্ত্রী। গেরুয়া উত্তরীয় গলায় চড়িয়ে পেশাদার বাজনদারের মতো এক চোট ঢোল বাজিয়ে নিয়ে ভাষণ শুরু করেন। মাইক ধরেই ‘জয় বজরংবলী কী’ বলে ছয়বার ধ্বনি দেন। মোদী-সহ বিজেপি নেতারা সাধারণত ভাষণের শুরুতে বলে থাকেন, ‘ভারত মাতা কী জয়।’ ভোটের কর্নাটকে যুক্ত হয়েছে ‘বজরংবলী কী জয়’ স্লোগানও।
কংগ্রেস ভগবান হনুমানকে অসম্মান করেছে, অভিযোগ তুলে ভোটের প্রচারে সাড়া ফেলে দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার দিনভর নেতারা হনুমান চালিশা পাঠ করেছেন। কংগ্রেস হিন্দু বিরোধী বলে অভিযোগ তুলেছে গোাটা গেরুয়া শিবির।
পরিস্থিতি সামলাতে হাত শিবির দু’দিন ধরে ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করেছে, ইস্তাহারে কোথাও বজরং দলকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কংগ্রেস মোদীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বজরং দল ও বজরংবলী অর্থাৎ হনুমানকে তিনি এক করে দেখছেন। এতেই হনুমানের অসম্মান হচ্ছে বেশি।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নাছোড়। তিনি প্রতিটি সভায় নিয়ম করে বলছেন, কংগ্রেসের হাতে মোটেই নিরাপদ নন ভগবান বজরংবলী। কংগ্রেস ভগবান রামকে তালাবন্দি করে (বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ বোঝাতে চেয়েছেন) রেখেছিল। এবার শ্রীরামচন্দ্রের শিষ্য হনুমানকেও তালাবন্দি করতে চায়। এখন দেখার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগকে কতটা আমল দেয় নির্বাচন কমিশন।
মোদীর ভারতে এবার ‘পথশিশু হঠাও’ অভিযান, হুকুম দিল্লির সংস্থার