
শেষ আপডেট: 18 March 2024 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাতে গার্ডেনরিচে ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতল। সোমবার সকালে মাথায় চোট নিয়েই ঘটনাস্থলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরু গলি দিয়ে হেঁটে গিয়ে খতিয়ে দেখেন উদ্ধারকাজ। বেআইনি বহুতল নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন তিনি।।
গার্ডেনরিচের বিভিন্ন এলাকাতেই দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি নির্মাণ কাজের অভিযোগ রয়েছে। যে বহুতলটি রবিবার রাতে ভেঙে পড়েছে সেটিও যে বেআইনি ছিল তা মেনে নিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বেআইনি নির্মাণের তত্ত্ব মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি বলেন, "বাড়িটি সরকারি অনুমতি আছে কিনা আমি মেয়রকে জিজ্ঞেস করলাম, ও বলল অফিসিয়াল পারমিশন পায়নি। এরকম কিছু কিছু বেআইনি বাড়ি নির্মাণ হয়।”
বহুতলের নীচে যাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি আরও বলেন, এই নির্মাণ কীভাবে হচ্ছিল, কোনও আইনি বৈধতা হয়েছিল কিনা, সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেখা হবে। দ্রুত প্রোমোটারকে গ্রেফতার করতে বলেছি।
গার্ডেনরিচের বহুতলের ধ্বংসস্তূপের ভিতর এখনও ছ’জন আটকে রয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের তরফে জানানো হয়েছে, সেই ছ’জনের মধ্যে এক জনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বাকিদের থেকে কোনও সাড়া পাচ্ছেন না উদ্ধারকারীরা। ফলে তাঁরা কী অবস্থায় আছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
এদিন ঘটনাস্থল থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা সকালে মর্মাহত। দুজন মারা গেছেন। যার মধ্যে আমি খবর পেলাম একজনের পা আটকে আছে। উদ্ধারকাজ যত তাড়াতাড়ি হবে তত ভালো। শোকস্তব্ধ আমি। বেআইনি কাজ করলে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি প্রশাসনের কাছে পদক্ষেপ করার জন্য জানিয়েছি।"
গার্ডেনরিচের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানেই বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এখানে যাঁরা আছেন তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।"
গার্ডেনরিচে নির্মীয়মান বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আহত এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছিলেন তিনিও। ইতিমধ্যেই ওই নির্মীয়মান বাড়ির প্রোমোটারকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।